রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাবেন, পুতিনকে কোন সিক্রেট বললেন মোদী ও জিনপিং?
নয়াদিল্লি , ১৩ সেপ্টেম্বর: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ব্যর্থ আমেরিকা? এবার শান্তির উদ্যোগ নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রবিবার রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা মস্কোকে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, এবং ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে পুতিন সেই প্রস্তাব স্বাগত জানিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক চেষ্টা এখনও পর্যন্ত সফল হয়নি — এমন প্রেক্ষাপটে মোদি-জিনপিংয়ের এই পদক্ষেপ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি, জিনপিং ও পুতিনকে একসঙ্গে দেখা গেছে, যাঁদের অনেকে ‘ক্ষমতাধর ত্রয়ী’ বলে অভিহিত করছেন। সম্মেলনের প্রথম দিনেই তিন নেতার হাসিমুখে হাত ধরে থাকা ছবিটি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। এই দৃশ্য শুধু তাঁদের পারস্পরিক সৌহার্দ্যই তুলে ধরেনি, বরং বিশ্বজুড়ে চলা বিভাজনের মধ্যে একতার একটা বার্তাও দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তিন বছর ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধ কি সত্যিই এই উদ্যোগে থামতে পারবে?

বর্তমানে বিশ্ব একসঙ্গে দুটি বড় সংঘাতের সাক্ষী — ইউক্রেন-রাশিয়া এবং ইরান-আমেরিকা, যার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ইতিমধ্যেই টালমাটাল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন শান্তি প্রস্তাবের দিকে সবার নজর থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে মোদির শান্তি-উদ্যোগকে সমর্থন জানানো নতুন কিছু নয়, তবু মোদি-জিনপিংয়ের যৌথ প্রস্তাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ — কারণ রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে থমকে থাকা আলোচনা ফের শুরু করার উপায় খুঁজতে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে আমেরিকা নিজেই।
সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবার সংসদীয় নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে রাশিয়া, যা অনুষ্ঠিত হবে ১৮-২০ সেপ্টেম্বর। পুতিন-সমর্থিত দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’র সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও পুতিনের উপর চাপ কম নয় — সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং বহু সেনার প্রাণহানি ঘটেছে, যার জবাবদিহি এবার দেশবাসীর কাছে করতে হবে তাঁকে।
