স্বাধীনতার ভাষণে ঐক্যের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সুনেত্রা সেনগুপ্ত, কলকাতা : ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে সমগ্ৰ দেশ জুড়ে।
এদিন সকালেই নিয়ম মেনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পৌঁছে যান। উল্লেখ্য স্বাধীনতা দিবসের ঠিক কিছুদিন আগেই নেতাজিকে নিয়ে করা কুরুচিকর মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সম্প্রতি, নেতাজিকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। নেতাজি সম্পর্কে অনন্ত মহারাজ বলেছিলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও ভূমিকা ছিল না সুভাষচন্দ্রের। এমনকী, নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহার করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন উত্তরবঙ্গের স্বঘোষিত “মহারাজ”।
এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। নিজের দলের সাংসদের বিরুদ্ধেই সরব হন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা। দলের অন্দরে বিভিন্ন নেতাদের করা সুভাষচন্দ্র বোসকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বলেন কাউকে রেয়াত করা হবে না। অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে শুভেন্দু-সরকার স্পষ্ট বার্তা দেয় নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে কড়া ব্যবস্থা নেবে রাজ্য। এই সিদ্ধান্তেই শুভেন্দু নিজ গুনে নেতাজি বিতর্কে কার্যত ইতি টানেন।
আজ সকালে সর্ব প্রথম প্রথা অনুযায়ী ধর্মতলার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে ফুলে মালায় শ্রদ্ধা জানান তিনি। এর পরেই আজ সকালে রেড রোডের স্বাধীনতা উদযাপনের মঞ্চে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন শেষে পতাকা উত্তোলন করেন। এদিনের মঞ্চ থেকে দেশকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক দল, ধর্ম ও জাতির বিভাজন ভুলে সকল ‘দেশপ্রেমী’ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই ভয়াবহ বিভাজন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয়তাবাদী মানুষদের একজোট হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের দেশভাগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দেশভাগের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে প্রত্যেক জাতীয়তাবাদী মানুষের উচিত দেশের ভিতর থেকে দেশকে দুর্বল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করা।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, উন্নয়ন কোনও একদিনের বিষয় নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কর্মসংস্থান তৈরি, রাস্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্প গড়ে তোলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে দেশের ইতিহাস ও অতীতের ঘটনাগুলি মনে করিয়ে দেওয়াও সরকারের দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্যে দেশভাগ ও কলকাতার দাঙ্গার ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এদিনের মঞ্চ থেকেই শুভেন্দুর ঘোষণা, ১৬ আগস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে কলকাতার মহা হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ইতিহাস ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
