বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

সবার আগে কেন পুজো পান গণেশ? শুভ কাজ তাঁকে ছাড়া হয় না!

12 September, 2026 7:37 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

বাংলায় গণেশ পুজো নিয়ে বর্তমানে বেশ উন্মাদনা, নানা প্রান্তে বেশ ধুমধাম করেই পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পূজিত হন সিদ্ধিদাতা গণেশ। শিব-পার্বতীর পুত্র এই দেবতাকে বলা হয় বিঘ্নহর্তা— অর্থাৎ যিনি সব বাধা দূর করেন। তাই কোনও পুজো, শুভ কাজ বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান শুরু করার আগে কেন গণেশের নামই প্রথমে নেওয়া হয়, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে পুরাণের একাধিক কাহিনিতে।

গণেশের জন্ম ও হাতির মাথা পাওয়ার কাহিনি

এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে গণেশের জন্ম ও তাঁর হাতির মাথা পাওয়ার সঙ্গে। কথিত আছে, একদিন স্নানে যাওয়ার আগে পার্বতী নিজের শরীরের ময়লা দিয়ে এক বালকের মূর্তি তৈরি করে তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সন্তানই গণেশ। মায়ের নির্দেশ ছিল, তিনি অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত যেন কাউকে ভিতরে ঢুকতে না দেওয়া হয়।

কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন স্বয়ং মহাদেব। কিন্তু গণেশ তাঁকেও ভিতরে যেতে বাধা দেন। দেবাদিদেব নিজের পরিচয় দিলেও মায়ের আদেশ অমান্য করতে রাজি হননি গণেশ। শেষ পর্যন্ত রাগের বশে শিব তাঁর ত্রিশূল দিয়ে গণেশের মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ছেলের এই পরিণতি দেখে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন পার্বতী। তিনি জানিয়ে দেন, গণেশকে প্রাণ ফিরিয়ে না দিলে তাঁর ক্রোধে গোটা সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামলাতে শিবগণকে এমন এক শিশুর মাথা আনতে বলা হয়, যে উত্তর দিকে মুখ করে শুয়ে রয়েছে। কিন্তু খুঁজতে গিয়ে তাঁরা একটি হাতিকেই পান। সেই হাতির মাথা এনে গণেশের দেহে স্থাপন করা হয় এবং প্রাণ ফিরে পান তিনি। এরপর মহাদেব তাঁকে আশীর্বাদ করে ঘোষণা করেন, গণেশ হবেন বিঘ্নহর্তা এবং সমস্ত পুজো ও শুভকাজে তিনিই হবেন অগ্রপূজ্য— অর্থাৎ সবার আগে তাঁরই পুজো করতে হবে।

বিশ্ব পরিক্রমার প্রতিযোগিতা

আর একটি জনপ্রিয় পৌরাণিক কাহিনিতেও গণেশের অগ্রপূজ্য হওয়ার কারণ পাওয়া যায়। একবার দেবতাদের মধ্যে কে সবার আগে পূজিত হবেন, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তখন মহাদেব ঘোষণা করেন, যে দেবতা নিজের বাহনে চড়ে প্রথমে গোটা বিশ্ব পরিক্রমা করে ফিরে আসতে পারবেন, তিনিই হবেন অগ্রপূজ্য।

অন্যান্য দেবতা যখন নিজের নিজের বাহন নিয়ে ছুটে গেলেন, গণেশ তখন মুষিককে সঙ্গে নিয়ে শিব-পার্বতীর চারপাশে তিনবার প্রদক্ষিণ করলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, মাতা-পিতার মধ্যেই তো গোটা বিশ্ব বিরাজ করে। গণেশের এই বুদ্ধির কাছে হার মানেন সকলে।

কেন আজও প্রথম পূজ্য গণেশ

এই দুই কাহিনি থেকেই শুভকাজের শুরুতে গণেশ পুজোর রীতি আরও দৃঢ় হয়েছে। বিশ্বাস, আগে গণেশের আরাধনা করলে কাজের পথে আসা বাধা দূর হয় এবং শুভ কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। সেই কারণেই আজও যে কোনও পুজো, বিয়ে বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান শুরুর আগে সবার আগে স্মরণ করা হয় সিদ্ধিদাতা গণেশকে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC