Oscar Bruzon: অস্কারের ‘মাস্টার’ ও ‘নিতুদা’ জোড়া বোমায় বেসামাল ইস্টবেঙ্গল
কলকাতা: একসময় তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নয়নের মণি। প্রায় দুই দশকের ট্রফি-খরা কাটিয়ে তাঁর হাত ধরেই এসেছিল সর্বভারতীয় সাফল্য। তাঁর কোচিংয়েই প্রথম আইএসএল শিরোপা পেয়েছিল লাল-হলুদ। সেই অস্কার ব্রুজোঁই এখন প্রাক্তন ঠিকানা থেকে দূরে বসে একের পর এক কামান দাগছেন পুরনো ক্লাবের অন্দরমহল লক্ষ্য করে। ‘মাস্টার’-এর প্রসঙ্গের পর এবার সরাসরি ‘নিতু দা’-র নাম নিয়েই তোপ দেগেছেন স্প্যানিশ কোচ। শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে অস্কারের অভিযোগ, ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পর তাঁকে এবং তাঁর সহকারীদের নিশানা করে সামাজিক মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচার চলছে। সেই প্রচারের রেশ তাঁর বর্তমান ক্লাব ভায়াংচারা প্রেসিসি ল্যাম্পুং এফসি পর্যন্ত পৌঁছেছে বলেও দাবি তাঁর।

অস্কারের নিশানায় মাস্টার
ড্রেসিংরুমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ সরাসরি করেছেন অস্কার। তাঁর বক্তব্য, “একাধিক বার আমাকে ‘মাস্টার’কে ড্রেসিংরুম থেকে বের করতে হয়েছে। তিনি ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সমালোচনা করতেন। এতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল এবং কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।” কোচ হিসেবে সেই পরিস্থিতি মেনে নেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
• I had to remove the “Master” from the dressing room on several occasions. He entered the dressing room to criticise players and members of the coaching staff, creating tension and undermining the working environment. I considered that unacceptable and intervened to protect the…
— Oscar Bruzon (@obruzon) September 11, 2026
দলের গোপন তথ্য বাইরে চলে যাওয়া নিয়েও সরব প্রাক্তন কোচ। অস্কারের অভিযোগ, “প্রযুক্তিগত তথ্য নিয়মিত ফাঁস হওয়াটা খুব ক্ষতিকর ছিল। অনুশীলন, কৌশল ও সম্ভাব্য একাদশের তথ্য বারবার সংবাদমাধ্যমে পৌঁছত।” ক্লাবের তরফে সংবাদমাধ্যমের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তাতেও সন্তুষ্ট হননি তিনি।
উদাহরণ মোহনবাগানের
এই প্রসঙ্গে মোহনবাগানের উদাহরণ টেনেছেন অস্কার। তাঁর বক্তব্য, “মোহনবাগান পাশের মাঠে অনুশীলন করত, কিন্তু তাদের একই ধরনের নিয়মিত তথ্য ফাঁসের মুখে পড়তে হয়নি।” তাঁর অভিযোগ, ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে ম্যাচের আগেই দলের কৌশল, সম্ভাব্য একাদশ এবং খেলার পরিকল্পনা নিয়ে বাইরে আলোচনা শুরু হয়ে যেত।
আরও পড়ুন: East Bengal: ডার্বির রেশ কাটতেই ধাক্কা, ইউনাইটেডের কাছে আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল
আরও পড়ুন: Kolkata League: কোল ইন্ডিয়াকে পাঁচ গোল দিয়ে ডার্বির ক্ষতয় কিছুটা মলম দিল মোহনবাগান
‘রেফারি আমাদের পক্ষে’
মরশুমের শেষ ম্যাচের আগে রেফারি নিয়েও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন অস্কার। তাঁর কথায়, “‘মাস্টার’ কয়েক জন স্টাফকে বলেছিলেন, রেফারি আমাদের পক্ষ নেবেন। সেই দাবি সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়। রেফারি স্বাধীন ভাবেই ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন।” ঘটনাটিকে দলের ভিতরে ছড়িয়ে থাকা ভুল তথ্যের উদাহরণ হিসেবেও দেখেছেন তিনি।
দলের সঙ্গে ওই ব্যক্তির যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অস্কার। তাঁর অভিযোগ, “আমার অভিজ্ঞতায়, দলের সঙ্গে তাঁর যাতায়াত দলকে সমর্থন করার চেয়ে নিজের প্রভাব বজায় রাখার সঙ্গেই বেশি যুক্ত ছিল।” দলের ভিতরের তথ্যের নাগাল পাওয়ার চেষ্টাও চলত বলে দাবি তাঁর।
🚨Holding Nitu Da Accountable for the Campaign Against Me and my Back Room Staff🚨 pic.twitter.com/ewXK6EZO2h
— Oscar Bruzon (@obruzon) September 11, 2026
অস্কারের পত্রবোমা
নতুন বিবৃতিতে অবশ্য প্রসঙ্গটা আরও ব্যক্তিগত জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন অস্কার। তাঁর দাবি, ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পর তাঁকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের প্রচার চলতে থাকে। সেই প্রচারের কিছু অংশ তাঁর বর্তমান ক্লাবের পরিসরেও পৌঁছয়। সময়, বিষয়বস্তু এবং বারবার একই ধরনের প্রচার সামনে আসার কথা উল্লেখ করে অস্কারের ধারণা, এর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের অভ্যন্তরীণ একটি রাজনৈতিক কাঠামোর যোগ থাকতে পারে। সেই জায়গা থেকেই ‘নিতু দা’-র কাছে তাঁর প্রশ্ন—এই প্রচারের পিছনে ওই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কারও উৎসাহ, নির্দেশ বা স্বার্থ রয়েছে কি না।
ধারাবাহিকতার সঙ্গে সংঘাত
চুক্তি নবীকরণ না করার কারণ নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন অস্কার। তাঁর দাবি, ইস্টবেঙ্গলকে প্রত্যাখ্যান করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ এবং স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে পেশাদার কাঠামো ও ধারাবাহিকতার যে সংঘাত তিনি দেখেছিলেন, তাতেই অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত। ইস্টবেঙ্গলে তাঁর দায় ছিল দল ও ক্লাবের প্রতি, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি নয়—বার্তাটা পরিষ্কার করেছেন তিনি।
ক্লাবের অবস্থান
অস্কারের মন্তব্যের পর ইস্টবেঙ্গলও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। ক্লাব তাঁর অবদান ও সম্মানের কথা স্বীকার করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের সঙ্গে ক্লাবের অবস্থান এক করে না দেখার বার্তা দিয়েছে।
