বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

প্রকৃত তৃণমূল তাঁরাই, নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে জানালেন ঋতব্রত, কটাক্ষ কুণালের

12 September, 2026 1:48 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি,১২ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন্ন উপনির্বাচনের মুখে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম, তহবিল এবং প্রতীক ‘জোড়া ফুল’-এর দখল নিয়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই গড়ালে নির্বাচন কমিশনের দরবারে। শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’—দুই শিবিরের সঙ্গেই পৃথক শুনানি সারেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। শনিবার সকালে নির্বাচন কমিশনের অফিসে প্রথমে বৈঠক করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত প্রশ্নের যথাযথ উত্তর এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র তাঁরা জমা দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে ঋতব্রত বলেন, “তৃণমূল পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়, কারও বাপের সম্পত্তিও নয়। কারও মর্জির ওপর গণতন্ত্র চলতে পারে না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ড. বন্দ্যোপাধ্যায়’ সম্বোধন করে তিনি যোগ করেন, “না খাতা, না বহি, মমতা ব্যানার্জি হি সহি—এভাবে আমরা চলি না। একজনের কথায় পুরো দল চলতে পারে না।”

সম্প্রতি রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের জন্য উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। 16 সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। দলীয় প্রতীকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুত জানানোর জন্য কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে তাঁর শিবির। তবে বিকল্প কোনো প্রতীক নিয়ে কোনও কথা হয়নি বলেই জানিয়েছেন তিনি । ঋতব্রতের মতে, ৮০% জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে আছে। বৈঠকের আগেই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান দাবি করেন, তাঁরাই মূল ও প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর দাবি, “বাংলার ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক আমাদের সঙ্গে আছেন। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভার প্রায় ৮০% জনপ্রতিনিধি এবং ৯৯% জেলা সভাপতি আমাদের পক্ষে রয়েছেন। ফলে সাংগঠনিক ও আইনি দিক থেকে তৃণমূল আমাদেরই।”

অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনও বিজেপির একটি শাখা সংগঠন, তাই এই বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই। আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। যেখানে মমতার প্রতি মানুষের সমর্থন আছে, সেখানেই আসল তৃণমূল।” ঋতব্রতদের বৈঠকের পরই কমিশনে হাজির হন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। সেই দলে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে এবং একজন আইনি পরামর্শদাতা। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ঘনিয়ে আসায় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC