সাকিব খুনের তদন্তে তৃণমূল নেতা জাকির হোসেনের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ২০২৩ সালের বহুল আলোচিত সিভিক ভলান্টিয়ার সাকিব আক্তার হত্যা মামলায় নতুন মোড়। পুলিশের পেশ করা চার্জশিটে সন্তুষ্ট না হয়ে পুরো ঘটনার পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইসলামপুর মহকুমা আদালত। আদালতের এই রায়ের পর উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর ব্লকের মাটিকুণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর ও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের ৮ মার্চ দোলের দিন সন্ধ্যায় ইসলামপুরের মাটিকুণ্ডা এলাকায় দু’পক্ষের তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনার সময় নিজের বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়ার সাকিব আক্তার। মুড়ি-মুড়কির মতো বোমাবাজি ও গুলি বর্ষণের মাঝে হঠাৎই একটি গুলি সাকিবের শরীরে এসে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একজন কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারের এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।ঘটনার পরপরই সাকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে ইসলামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই এজাহারে তৎকালীন ইসলামপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি জাকির হোসেন সহ মোট ৩২ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি ছিল, রাজনৈতিক আক্রোশ ও এলাকার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের কারণেই সাকিবকে পরিকল্পিতভাবে বলি হতে হয়েছে। তবে গোলমালের সূত্রপাত হয় পুলিশের প্রাথমিক চার্জশিট পেশের পর। সাকিবের পরিবারের অভিযোগ, তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা প্রভাবশালীদের চাপে নতিস্বীকার করে তদন্তের গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছেন। চার্জশিট থেকে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা জাকির হোসেনের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং তদন্তে কারচুপির অভিযোগ এনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মৃতের পরিবার। পুলিশের এই একপেশে চার্জশিট মানতে অস্বীকার করে সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ইসলামপুর মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হন সাকিবের স্বজনরা। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে অবশেষে আদালত পুলিশের জমা দেওয়া তদন্ত রিপোর্টে একাধিক ফাঁকফোকর ও অসংগতি চিহ্নিত করে। বিচারক নির্দেশ দেন, এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য সামনে আনতে মামলাটির পুনরায় তদন্ত করতে হবে। আদালতের এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মৃতের পরিবার। সাকিবের পরিজনদের মতে, “পুলিশ প্রভাবশালী নেতাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা বিচারব্যবস্থার ওপর ভরসা রেখেছিলাম। আদালতের এই নির্দেশে প্রমান হলো সত্যকে কখনোই চেপে রাখা যায় না। এবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা সাজা পাবে এবং সাকিব ন্যায়বিচার পাবে।” অন্যদিকে, আদালতের এই আদেশের পর ইসলামপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাসকদলের ভূমিকা এবং তৎকালীন ব্লক সভাপতির নাম চার্জশিট থেকে বাদ পড়া নিয়ে বিরোধী দলগুলি সোচ্চার হতে শুরু করেছে। পুনরায় তদন্তে এখন নতুন কোনো তথ্য বা অভিযুক্তদের নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই নজর মাটিকুণ্ডা সহ সমগ্র উত্তর দিনাজপুর জেলার।
