শিলিগুড়িতে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেট
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ফের বড় সাফল্য পেল রাজ্য প্রশাসন। শিলিগুড়িতে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেট। বাজেয়াপ্ত হওয়া মাদকের মোট ওজন প্রায় আড়াই কিলোগ্রাম, যার আনুমানিক আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ১ কোটি টাকারও বেশি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মহিলা-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়। শিলিগুড়ি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, শিলিগুড়ি গভর্মেন্ট রেলওয়ে পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবং নিউ জলপাইগুড়ি জিআরপির সাদা পোশাকের পুলিশ যৌথভাবে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা।
অভিযান চলাকালীন চারজনের একটি দলকে আটক করে তল্লাশি শুরু করা হয়। তাদের কাছে থাকা তিনটি পিঠের ব্যাগ এবং একটি লেডিস ব্যাগ থেকে প্যাকেটজাত অবস্থায় উদ্ধার হয় প্রায় আড়াই কেজির নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ দেখে চমকে যান পোড়খাওয়া আধিকারিকরাও।
উদ্ধার হওয়া বস্তুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা |প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ধৃত চারজনের মূল বাসস্থান কোচবিহার জেলায়। উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা কোচবিহারকে ইদানীং মাদক পাচারকারীরা অন্যতম সেফ প্যাসেজ হিসেবে ব্যবহার করছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে এই ধরনের মারাত্মক মাদক ভারতে নিয়ে আসা হয় বলে অনুমান।
তদন্তকারীদের ধারণা, কোচবিহার থেকে ট্রেন বা সড়কপথে শিলিগুড়ি হয়ে দেশের অন্যান্য বড় শহর কিংবা প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে এই ইয়াবা চালান করার পরিকল্পনা ছিল পাচারকারীদের। শিলিগুড়ি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ঠিক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা জানতে ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বাজেয়াপ্ত করে চার অভিযুক্তকে সুনির্দিষ্ট মাদক আইনে (NDPS Act) গ্রেফতার করা হয়েছে। জিআরপি এবং শিলিগুড়ি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স যৌথভাবে এই চক্রের গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত শুরু করেছে। ভারত-বাংলাদেশ বা মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে কীভাবে এই বিশাল পরিমাণের ইয়াবা ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে মাদকের এই রমরমা কারবার রুখতে আগামী দিনে পুলিশ ও এসটিএফের যৌথ টহল এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
