টোটোর দৌরাত্ম্য: বারাবনিতে অনির্দিষ্টকালের মিনিবাস ধর্মঘট
সংবাদদাতা, বারাবনি: টোটোর অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যাবৃদ্ধি, বেপরোয়া চলাচল এবং ধারাবাহিক গোলমালের জেরে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে মিনিবাস চালক ও কর্মীদের মধ্যে। স্থানীয় রুটে টোটোর দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বারাবনি এলাকার মিনিবাস চালকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বারাবনি ও তার সংলগ্ন এলাকায় টোটোর সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছিল। বাসচালকদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট রুট ও সরকারি নিয়মকানুন না মেনে টোটোগুলি বাস চলাচলের মূল রাস্তায় যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। এর ফলে মিনিবাসের যাত্রীসংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাস মালিক ও কর্মীরা।
শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, রাস্তায় টোটো চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই মিনিবাস চালকদের সঙ্গে বচসা ও গোলমাল লেগেই রয়েছে। একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে থাকায় শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার অভাব ও ক্ষোভ থেকে বাস চলাচল স্তব্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন আসানসোল-বারাবনি রুটের মিনিবাস চালকরা।
ধর্মঘটে সামিল হওয়া চালক ও কর্মীদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে টোটো চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। টোটো চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট, সময়সীমা ও আইনি নিয়মকানুন নির্ধারণ করতে হবে। বাস ও টোটোর মধ্যে যাত্রী পরিবহনের একটি সুষ্ঠু ও স্থায়ী নীতিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই মিনিবাস পরিষেবা চালু করা হবে না।অনির্দিষ্টকালের এই বাস ধর্মঘটের ফলে দোমহানি মোড়সহ বারাবনির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থা একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। কর্মক্ষেত্র, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আসা সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গণপরিবহন না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত দোমহানি মোড়ে পৌঁছায় বারাবনি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ আধিকারিকরা আন্দোলনরত মিনিবাস চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে ধর্মঘট তুলে নিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানান। পুলিশের আশ্বাস সত্ত্বেও নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন আন্দোলনকারী মিনিবাস চালকরা। সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ইতিপূর্বে টোটো ও মিনিবাস চালকদের নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠক ডাকা হলেও আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কোনো সিদ্ধান্ত বদল করবেন না।
বর্তমানে বারাবনির পরিবহন ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি নির্ভর করছে আসন্ন প্রশাসনিক বৈঠকের ফলাফলের ওপর। প্রশাসন কীভাবে বেআইনি ও অনিয়ন্ত্রিত টোটো নিয়ন্ত্রণ করে এবং মিনিবাস চালকদের বকেয়া দাবিপূরণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সমগ্র বারাবনিবাসী।
