মায়ের শেষকৃত্যে হাউহাউ করে কাঁদলেন চিন্ময়কৃষ্ণ
সংবাদদাতা, ঢাকা: শেষ শয্যায় শুয়ে রয়েছেন মা। আর সামনে দাঁড়িয়ে শিশুর মতই হাউহাউ করে কাঁদছেন গেরুয়া রঙের কাপড়, কপালে তিলক পরা ছেলে স্বামী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। তাঁর চোখের সামনেই একটু একটু করে পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যাচ্ছেন মা সন্ধ্যারানি। চিন্ময় সংসার ছেড়েছেন বহুকাল আগে। কিন্তু মায়ের প্রতি টান থেকে গিয়েছিল একইরকম। মর্মান্তিক, আবেগঘন এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা চোখের পাতা ভিজিয়েছে নেট নাগরিকদের।
কয়েকদিন আগেই অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ। কিন্তু সাড়া মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় মা সন্ধ্যারানি ধরের। তারপরই শেষকৃত্যের জন্য চিন্ময় কৃষ্ণের ৫ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
জানা গেছে, জেল থেকে বেরিয়েই চিন্ময়কৃষ্ণ সোজা চলে যান চট্টগ্রামের হাটহাজারির মেখলের পুণ্ডরীক ধামে। সেখানেই সন্ধ্যারানির শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়েছিল। পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছেই প্রথমে মন্দিরে যান চিন্ময়কৃষ্ণ। রাধা–কৃষ্ণের বিগ্রহের পা ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। তারপর ধামের পাশে থাকা শ্মশানে মায়ের শেষকৃত্যের জায়গায় গিয়ে পৌঁছোন। শ্মশানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন। পরে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে হাউহাউ করে কেঁদে ওঠেন। উপস্থিত সন্ন্যাসীরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কেউ তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ মাথায় ও গায়ে হাত বুলিয়ে দেন।
২০২৪ সাল থেকে জেলে রয়েছেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ওই বছরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা পুলিশ। পরে একটি মামলায় জামিন পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্য মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সেই সব মামলায় জামিন না মেলায় জেলের বাইরে বেরতে পারেননি।
