বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

উত্তপ্ত সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজ, পদত্যাগ উপাধ্যক্ষের

11 September, 2026 12:55 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা:‌ পরীক্ষায় বসার ন্যূনতম উপস্থিতির হারের কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ। ক্লাসে প্রয়োজনীয় উপস্থিতি না থাকায় একদল ছাত্রছাত্রীকে আসন্ন পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না—কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়াদের একাংশ। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ গভীর রাতে চরম আকার ধারণ করে। রাতভর নিজের ঘরেই ঘেরাও হয়ে রইলেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল মহম্মদ তারান্নুম। অভিযোগ, ঘেরাও চলাকালীন তাঁর ঘরের বাইরে আলো ও জলের ব্যবস্থাও ছিল না। ২৩ ঘণ্টা আটকে থাকার পর পদত্যাগপত্রে সই করেছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার নিয়ম মেনে পরীক্ষায় বসার জন্য ন্যূনতম ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যাতামূলক। কিন্তু অভিযোগ, বহু পড়ুয়ার সেই উপস্থিতি ছিল না। তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীকে ফর্ম ফিলাপ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর পরেই বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীরা প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, বিশেষ কারণে অনেকের উপস্থিতি কম হয়েছে, তাই মানবতা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিতে হবে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রাত নামার পর পুরো কলেজে বিদ্যুৎ সংযোগ ও জল সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অন্ধকার এবং চরম পানীয় জলের সংকটের মধ্যেই নিজের ঘরে আটকা পড়ে থাকেন ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদ তারান্নুম। রাতভর ঘরের বাইরে তাণ্ডব চলে, টানা স্লোগান ও দরজা ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। অন্যান্য শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীরা মধ্যস্থতা করতে গেলে তাঁদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়। ভাইস প্রিন্সিপালের স্পষ্ট বক্তব্য, নিয়মকানুনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। বার কাউন্সিলের কড়া নজরদারি রয়েছে উপস্থিতির হারের ওপর। নিয়মের তোয়াক্কা না করে সবাইকে পরীক্ষায় বসতে দিলে কলেজের অ্যাকাডেমিক মান ও মান্যতার ওপর প্রভাব পড়বে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পাল্টা যুক্তি, সারা বছর ঠিকমতো ক্লাস না হওয়া এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজে পুলিশ পৌঁছালেও ছাত্রছাত্রীদের লাগাতার ঘেরাওয়ের মুখে কোনো সমাধানসূত্রে পৌঁছানো যায়নি। পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। ঘটনার ফলে কলেজের পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। আগামী পরীক্ষাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মনে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik