Duleep Trophy: ব্যাটে পাহাড়, বলে আগুন—শামি-মুকেশে জয়ের দরজায় পূর্বাঞ্চল
চেন্নাই: ব্যাট হাতে ৭০৮ রানের পাহাড় গড়ে কাজটা কঠিন করে দিয়েছিলেন ইশান কিষানেরা। তৃতীয় দিনে সেই পাহাড় আরও উঁচু করে দিলেন মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার। দলীপ ট্রফি ফাইনালে চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে দক্ষিণাঞ্চল দিনের শেষে ৮০ ওভারে ২৪২/৬। প্রথম ইনিংসে এখনও ৪৬৬ রানে পিছিয়ে তিলক বর্মার দল। একদিকে একা লড়ছেন অধিনায়ক, অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ।

দলীপ ট্রফি ফাইনালে মুকেশ-শামির দাপট:
চেন্নাইয়ের উইকেট দেখে প্রথম দু’দিনে যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, তৃতীয় দিনেও তার খুব একটা বদল হয়নি। পিচে বিশেষ গতি নেই, বাড়তি বাউন্সও নয়। স্পিনারদের জন্যও সাহায্য সীমিত। এমন উইকেটে রান করা তুলনায় সহজ বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শামি-মুকেশ বুঝিয়ে দিলেন, পিচ যতই নিষ্প্রাণ হোক, দক্ষ বোলারের হাতে পুরনো বল এখনও বিপজ্জনক।
শুরুতেই ধাক্কা দেয় পূর্বাঞ্চল। মুকেশের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রানে ফেরেন রিকি ভুঁই। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। রিভিউ নেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। সিদ্ধান্ত বদলায়। এরপর নারায়ণ জগদীশন ও দেবদত্ত পডিক্কল কিছুটা সামলে নেন দলকে। মধ্যাহ্নভোজের আগে শিখর মোহনের বলে ৩২ রানে জগদীশনের বিদায় অবশ্য সেই জুটি ভেঙে দেয়।
আরও পড়ুন: Duleep Trophy: ইশান কিষানের ২৭০! চিপকে ৭০৮ রানের পাহাড়ে পূর্বাঞ্চল
আরও পড়ুন: Premier League: আর্সেনালের কামব্যাক, ৯৬ মিনিটে ইউনাইটেডের স্বপ্নভঙ্গ
তারপর দলীপ ট্রফি ফাইনালে র সুর বদলাতে শুরু করে। পুরনো বলের পালিশ কমতেই শামির হাতে যেন নতুন অস্ত্র এল—রিভার্স সুইং। সেই সুইংয়ের এক ডেলিভারিতে ২৭ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে যান শেখ রশিদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুকেশের বলে পুল করতে গিয়ে ৬২ রানে ক্যাচ দেন পডিক্কল। বলটি এমন কিছু কঠিন ছিল না। উইকেট হারানোর পর তাঁর মুখের হতাশাই বলে দিচ্ছিল, সুযোগটা তিনি নিজেই নষ্ট করেছেন।
এরপর দায়িত্ব নেন স্মরণ রবিচন্দ্রন। রঞ্জির গত মরসুমে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহককে থামানোও সহজ ছিল না। কিন্তু শামির ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রণের সামনে শেষ পর্যন্ত ভুল করেন স্মরণ। তাঁর ব্যাটের হালকা স্পর্শ উইকেটকিপার কুমার কুশগ্রহের গ্লাভসে জমা পড়লেও আম্পায়ার আউট দেননি। বৈভব তখন আবার রিভিউয়ের জন্য জোর দেন। সিদ্ধান্ত যায় পূর্বাঞ্চলের পক্ষে। শামির দ্বিতীয় উইকেট নিশ্চিত হয়।
এই জায়গাতেই বৈভবের পরিণত ক্রিকেটবোধ আলাদা করে চোখে পড়েছে। বয়স মাত্র ১৫। অথচ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দু’টি রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তেই তাঁর ভূমিকা ছিল। শামির উইকেট পাওয়ার পর পূর্বাঞ্চলের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাসও যেন সেই সিদ্ধান্তেরই স্বীকৃতি।
শেষ সেশনে তিলক বর্মা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তাঁর সঙ্গে শ্ৰেয়স গোপালও বেশ কিছুক্ষণ টিকে ছিলেন। মুকেশের বলে তাঁর ক্যাচ অবশ্য বৈভবের হাত ফসকে যায় স্লিপে। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরও পূর্বাঞ্চলের চাপ কমেনি। দিনের শেষদিকে ২৬ রানে গোপালকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ কৌনাইন কুরেশি। তিলক তখনও অপরাজিত ৫৬।
শেষ পর্যন্ত দলীপ ট্রফি ফাইনালে হিসাবটাই পূর্বাঞ্চলের পক্ষে কথা বলছে। শামি ১১ ওভারে চারটি মেডেন-সহ ১৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। মুকেশ ১২ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট।
৭০৮ রানের জবাবে ২৪২/৬। হাতে মাত্র চার উইকেট। সামনে এখনও ৪৬৬ রানের পাহাড়। তিলক যতক্ষণ আছেন, আশা পুরোপুরি শেষ বলা যায় না। কিন্তু ম্যাচের ছবিটা স্পষ্ট—চেন্নাইয়ের নিষ্প্রাণ পিচে পার্থক্য গড়ে দিলেন বোলাররাই। আর সেই পার্থক্যের নাম, মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার।
