বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

দুর্গাপুরে ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ৬ লক্ষ টাকা

08 September, 2026 6:55 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ওটিপি শেয়ার ছাড়াই, অচেনা কোনো লিঙ্কে ক্লিক ছাড়াই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে এক লহমায় গায়েব হয়ে গেল ৬ লক্ষ টাকা। দুর্গাপুরের বিধাননগর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর সাইবার প্রতারণার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জালিয়াতির এই নতুন ধরন সাধারণ মানুষের চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের বিধাননগর আবাসন এলাকার বাসিন্দা তথা পেশায় ব্যবসায়ী প্রবুদ্ধ গুহ সোমবার দুপুর নাগাদ লক্ষ্য করেন, তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একের পর এক অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করেছে। কোনো রকম বিপদ বা প্রতারণার ফাঁদ এড়াতে তিনি সচেতনভাবেই সেই ফোনগুলির একটিরও উত্তর দেননি। একই সঙ্গে কোনো মেসেজের লিঙ্কে স্পর্শ করেননি বা কাউকেও নিজের কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি দেননি। পরপর অসংখ্য ফোন আসায় বিষয়টি নিয়ে মনে খটকা জাগে প্রবুদ্ধবাবুর। কোনো অঘটন ঘটার আগেই সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তিনি তড়িঘড়ি নিজের ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় ছুটে যান এবং সমস্ত বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানান। অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সুরক্ষিত করার আবেদনও জানান তিনি। কিন্তু অভিযোগ, ব্যাংক থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মোবাইলে একটি মেসেজ ভেসে ওঠে। মেসেজটি দেখা মাত্রই চোখ কপালে ওঠে প্রবুদ্ধবাবু ও তাঁর পরিবারের। তাতে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে মোট ৬ লক্ষ টাকা ডেবিট অর্থাৎ কেটে নেওয়া হয়েছে। ৬ লক্ষ টাকা হাওয়া হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে মাথায় হাত পড়েছে গুহ পরিবারের। প্রবুদ্ধবাবুর পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই টাকাটি তাঁদের চরম বিপদের শেষ সম্বল হিসেবে সঞ্চিত ছিল। পরিবারের এক সদস্যের জরুরি চিকিৎসা এবং ছেলের আগামী শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তির খরচের জন্য তিল তিল করে এই অর্থ জমিয়েছিলেন তাঁরা। সম্বলটুকু হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। এই ঘটনার পরেই দিশেহারা ব্যবসায়ী আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু কোনো তথ্য আদান-প্রদান ছাড়া কীভাবে এত বড় অঙ্কের টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া সম্ভব হলো, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, এটি ‘ই-সিম স্পুফিং, সিম সোয়াপিং এর ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে ফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। দুর্গাপুর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ট্রানজ্যাকশন আইডি ও যে অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে তা ট্র্যাক করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনা শিল্পাঞ্চলের সাধারণ ব্যাংক গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে সুরক্ষাহীনতার আতঙ্ক তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik