উড়ে এসে জুড়ে বসে- ওড়িশার জঙ্গলে কীভাবে এল ৫টি ওরাংওটাং?
ভুবনেশ্বর, ৮ সেপ্টেম্বর: “হলদে সবুজ ওরাংওটাং / ইট পাটকেল চিৎপটাং” । সেই কবে লিখে গিয়েছিলেন সুকুমার রায়। কোথাও কিছু নেই, পূর্ব ভারতের জঙ্গলে কোত্থেকে হাজির ৫টি শিশু ওরাংওটাং। বন্যপ্রাণী পাচারের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত নয় তো? আচমকা উড়ে এসে জুড়ে বসা ওরাংওটাং নিয়ে কালঘাম ছুটছে বন দপ্তরের। স্থানীয় বাসিন্দারা বনে ওরাংওটাং দেখে ভয় পেয়ে যান। খবর পেয়েই বন দপ্তর প্রাণীগুলিকে উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন জ়ুলজিক্যাল পার্কে পাঠানো হয় তাদের। প্রশ্ন হলো—দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঘন জঙ্গলের ওরাংওটাং ওড়িশার উপকণ্ঠে এসে পৌঁছল? কীভাবে ওড়িশায় এল ওরাংওটাং, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
প্রধানত বোর্নিও এবং সুমাত্রার ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্টের প্রাণী ওরাংওটাং। ভারতের কোনও বনাঞ্চলেই কোনও কালেই দেখা যায়নি ওরাংওটাংকে। বন আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার বনাঞ্চলের সাথে ওড়িশার কোনও প্রাকৃতিক পথ বা ‘ন্যাচারাল করিডর’ নেই। ফলে মানুষের প্রত্যক্ষ হাত ছাড়া এদের ভারতে আসা অসম্ভব। উদ্ধার হওয়া ওরাংওটাংগুলির উচ্চতা মাত্র ১ থেকে ১.৫ ফুট। আন্তর্জাতিক ‘এক্সোটিক পেট’ (exotic pet) বাজারে শিশু প্রাণীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকায়, পাচারকারীরা এদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে নিয়ে এসেছে? ওরাংওটাং নিয়ে তাই ঘুম উড়েছে ওড়িশা সরকারের।
ওরাংওটাং বর্তমানে IUCN Red List-এ চরম সংকটাপন্ন প্রজাতি (Critically Endangered) হিসেবে চিহ্নিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও বাসস্থান ধ্বংসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চোরাশিকার এদের অস্তিত্বকে আরও বিপন্ন করেছে। এই ঘটনায় প্রমাণিত, পাচারকারীরা দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ পরিবহণ ব্যবস্থা খুব সুলভে ব্যবহার করছে, আর অবাধে বন্যপ্রাণী পাচার চলছে।
