মণিপুরী সঙ্গীতশিল্পীকে পিটিয়ে খুন, উত্তপ্ত রাজনীতির ময়দান
সংবাদদাতা, দিল্লি: বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না দিল্লির। চাণক্যপুরীতে বহুতল ভেঙে পড়ুয়া মৃত্যুর রেশ এখনও কাটেনি। তার মাঝেই মণিপুরী সঙ্গীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিং–কে পিটিয়ে মারার অভিযোগে উত্তপ্ত রাজধানী। দক্ষিণ দিল্লির সানলাইট কলোনির কিলোকরি এলাকায় বাড়ির সামনেই আক্রান্ত হন তিনি। আশঙ্কানক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এক নাবালকসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে এই এলাকাতেই বাস করতেন বিক্রম। সোমবার ভোরে মত্ত অবস্থায় কয়েকজন তাঁর বাড়ির সামনে গোলমাল করছিল। সেই আচরণের প্রতিবাদ জানাতে বাইরে বের হন বিক্রম। তখনই অভিযুক্তরা তাঁকে মারধর করতে শুরু করেন। রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি ঘুষি, লাথি মারা হয়। গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় বিক্রমের। চিকিৎসকদের ধারণা, কোনও ভোঁতা বস্তু দিয়ে জোরে আঘাত করা হয়েছিল তাঁকে। তার ফলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ–পূর্ব) বিনীত কুমার জানিয়েছেন, তিনি এবং অন্য আধিকারিকরা বিক্রমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর সম্প্রদায়ের অন্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করা হয়েছে। দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
মণিপুরী সঙ্গীতের জনপ্রিয় মুখ ছিলেন চোংথাম বিক্রম সিং। একটা সময় মণিপুরের প্রখ্যাত রক ব্যান্ড ‘ফিনিক্স’–এর গিটারিস্ট ছিলেন। তাছাড়াও আলট্রা ভাইরেস, ইস্টার্ন ডার্ক দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে মণিপুর ছেড়ে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন।
এদিকে মণিপুরী শিল্পীর মৃত্যুর ঘটনায় মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন ১৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় আট একটি সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছেন। ওই ভিডিয়োটি দিল্লি পুলিশ এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে ট্যাগ করে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। বার্তায় লিখেছেন, দিল্লিতে থাকা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিটি পরিবারের আজ একই প্রশ্ন— তাঁরা কি এখানে নিরাপদ? রাহুলের “উত্তর-পূর্বের মানুষদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অরাজকতা রুখতে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ কী করছে? ঘটনায় কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও। তাঁর অভিযোগ, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের সঙ্গে বৈষম্য হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের উপরে আক্রমণের অভিযোগে সরব হয়েছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও। ঘটনায় মুখ খুলেছে কেন্দ্রও। আশ্বাস দিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা এবং তাঁদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেছেন, মণিপুরের সঙ্গীতশিল্পীর মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখের। উত্তর-পূর্বের মানুষদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা কোনও ভাবেই ক্ষুণ্ণ করা চলবে না। আমি দিল্লি পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ করার এবং তদন্ত করতে বলেছি। দোষীদের আইনের আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
