Cricket Association Of Bengal: চিপকে দলীপ ফাইনালে ব্যস্ত শামি-সুদীপ, তাঁদের জন্য কলকাতায় সিএবির পুরস্কার সন্ধ্যা
কলকাতা: এক শহরে পুরস্কার, অন্য শহরে লড়াই। সোমবার সন্ধ্যায় আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সিএবির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যখন বাংলার ক্রিকেটের সেরাদের হাতে একে একে সম্মান তুলে দেওয়া হচ্ছে, তখন কয়েকশো কিলোমিটার দূরে চেন্নাইয়ের চিপকে দলীপ ট্রফির ফাইনালে ব্যস্ত মহম্মদ শামি, সুদীপ ঘরামিরা। তাই পুরস্কার এলেও প্রাপকদের কয়েকজনকে দেখা গেল না মঞ্চে। মাঠের দায়িত্বেই তখন তাঁরা। কলকাতার মঞ্চ থেকে তাঁদের নাম ঘোষণা করে স্বীকৃতি জানাল বাংলার ক্রিকেট সংস্থা।

সিএবির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নেহরা:
সিএবির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অবশ্য তারকার অভাব ছিল না। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রাক্তন পেসার আশিস নেহরা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারতীয় দলে খেলা নেহরাকে বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সিএবি। আইপিএলে গুজরাত টাইটান্সকে কোচ হিসাবে চ্যাম্পিয়ন করা নেহরার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বাড়তি আকর্ষণও তৈরি হয়।
পুরস্কারপ্রাপকদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির একটি মহম্মদ শামি। গত মরসুমের সেরা পেসারের সম্মান পেয়েছেন তিনি। কিন্তু চেন্নাইয়ে দলীপ ট্রফির ফাইনালে ইস্ট জ়োনের হয়ে খেলায় কলকাতার অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। অবশ্য সিএবির কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা নয়। দলীপ ফাইনালের আগে চেন্নাইয়েই তাঁর শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ উপলক্ষে শামিকে সংবর্ধিত করেছিল সিএবি।
আরও পড়ুন: Duleep Trophy: ইশান কিষানের ২৭০! চিপকে ৭০৮ রানের পাহাড়ে পূর্বাঞ্চল
সিনিয়র পুরুষ বিভাগে মরসুমের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন সুদীপ ঘরামি। তিনিও অনুষ্ঠানে ছিলেন না। কারণ, তিনিও তখন চেপকে। দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে সদ্য শতরান করেছেন সুদীপ। ফাইনালের প্রথম ইনিংসে অবশ্য বড় রান পাননি। কিন্তু গোটা মরসুমের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি এল সিএবির বার্ষিক পুরস্কারে।
‘জেন্টলম্যান ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ হয়েছেন সুমন্ত গুপ্ত। মহিলাদের সিনিয়র বিভাগে সেরা তনুশ্রী সরকার। অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ বিভাগে সেরা ক্রিকেটার আয়ুষ সিংহ, সেরা বোলার সুখমিত সিংহ। একই বিভাগে সেরা মহিলা ক্রিকেটার সুজাতা দে।
এর পর পুরস্কারের আলো পড়ল বাংলার আরও ছোটদের উপর। অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে সেরা ক্রিকেটার চন্দ্রহাস দাস, সেরা বোলার অগস্ত্য শুক্ল এবং সেরা মহিলা ক্রিকেটার ইপ্সিতা মণ্ডল। অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে সেরা ক্রিকেটার রাজেশ মণ্ডল এবং সেরা বোলার ত্রিপর্ণ সামন্ত। অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা বিভাগে সেরা শায়লা সেনাপতি। জেলার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কৃতীদেরও এ দিন পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এল অন্য আবেগ। বাংলার ক্রিকেটে দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া হল পূর্ণিমা চৌধুরী এবং প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার উৎপল চট্টোপাধ্যায়কে।
একদিকে চেন্নাইয়ে ফাইনালের উত্তাপ। অন্যদিকে কলকাতায় সেই ক্রিকেটারদেরই মরসুমের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। কেউ মাঠে থেকে লড়ছেন, কেউ দূর থেকে পাচ্ছেন পুরস্কার। সিএবির এই সন্ধ্যায় তাই বাংলার ক্রিকেটের একটা ছবিই স্পষ্ট—স্বীকৃতি থেমে নেই, লড়াইটাও থেমে নেই।
