Duleep Trophy: ইশান কিষানের ২৭০! চিপকে ৭০৮ রানের পাহাড়ে পূর্বাঞ্চল
চেন্নাই: চেন্নাইয়ের গরমে শরীরটা আর সঙ্গ দিচ্ছিল না। স্কোরবোর্ডে তখন ২৫০। ক্র্যাম্প নিয়ে মাঠ ছাড়লেন। পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ককে দেখে মনে হচ্ছিল, হয়তো এখানেই শেষ হবে ইনিংস। কিন্তু ঈশান কিষানের ২৭০ তখনও শেষ হয়নি। কিছুক্ষণ পর ফের ব্যাট হাতে নামলেন। তারপর আরও ২০ রান। ২৭০-এ গিয়ে থামল ইনিংস। দলীপ ট্রফির ফাইনালের দ্বিতীয় দিনটা তাই শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল ঈশানের দিন। ৩৩৪ বল। ৫২২ মিনিট। ৩০টি চার, সাতটি ছক্কা। আর ২৭০ রান। তাঁর ইনিংসের উপর ভর করেই দক্ষিণাঞ্চলের সামনে ৭০৮ রানের লক্ষ্য রেখে প্রথম ইনিংসে অলআউট হল ইস্ট জোন। ১৬৩ ওভার ব্যাট করেছে তারা।

প্রথম দিন শেষ হয়েছিল ৩৮৫/৪-এ। ঈশান তখন ১১১ রানে অপরাজিত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কুমার কুশাগ্র, ৬৩। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দু’জনে ম্যাচের ছবিটা আরও বদলে দেন। পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ২৩০ রান। কুশাগ্রও তুলে নেন শতরান। ১৩২ বলে ১০১। আটটি চার, পাঁচটি ছক্কা। এটি তাঁর প্রথম দলীপ ট্রফি সেঞ্চুরি।
কুশাগ্র ফিরেছেন, কিন্তু ঈশান থামেননি
দু’শো পেরিয়েছেন। তারপর ২৫০। ঠিক তখনই শরীরের ধাক্কা। মাঠের বাইরে যেতে হল। ইস্ট জোন তখন ৬১১/৫। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন তিনি। আবার ব্যাট হাতে দাঁড়ালেন। আর ২০ রান পরেই শেষ হল সেই দীর্ঘ ইনিংস। ত্রিপুরানা বিজয়ের বলে লং-অনে রবিচন্দ্রন স্মরণের হাতে ক্যাচ। ২৭০। ত্রিশতরান থেকে ৩০ রান দূরে থামলেন ঈশান। দলীপ ট্রফির ফাইনালে ব্যক্তিগত রানের তালিকায় তাঁর আগে শুধু রমন লাম্বার ৩২০।
পূর্বাঞ্চলের সাতশো পার করার গল্প অবশ্য শুধু ঈশানের নয়। অভিমন্যু ঈশ্বরন করেন ৭২। শিখর মোহনের ব্যাট থেকে আসে ৮৫। অনুকূল রায় ৪৫। কুশাগ্রর ১০১। এই রানগুলো জুড়েই তৈরি হয়েছে ৭০৮-এর স্কোর। দলীপ ট্রফির ফাইনালে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের দিনটা সহজ ছিল না। ত্রিপুরানা বিজয় ৪৭ ওভারে ১৮০ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছেন। মহম্মদ সিরাজ ২৫ ওভারে ১৪০ রান দিয়ে উইকেট পাননি। ১৬৩ ওভার ফিল্ডিং করার পর দিনের শেষ দিকে পূর্বাঞ্চলের শেষ উইকেটটি তুলেছে সাউথ।
জবাব দেওয়ার পালা তিলকদের
এখন চিপকের পিচের চরিত্র বদলাবে। ব্যাট হাতে নামবে সাউথ জোন। সামনে ৭০৮। তিলকদের প্রাথমিক কাজ হবে এই বিশাল রানের জবাব দেওয়া। যত বড় জবাব, তত জমবে ফাইনাল। আর দ্রুত উইকেট পড়লে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও চলে যাবে পূর্বাঞ্চলের হাতে। দুই দিন ধরে দাপিয়ে ব্যাট করেছে তাঁরা। ঈশান একাই পিচে ছিলেন ৫২২ মিনিট। শরীর থামাতে চেয়েছিল ২৫০-তে। তিনি ফিরেছেন। ঈশান কিষানের ২৭০-এর ইনিংসেই অবশ্য ম্যাচের ছবিটা বদলে গিয়েছে। এখন ৭০৮ রানের জবাব দেওয়ার পালা দক্ষিণের।
