আস্থা ভোটে জয়, সভাপতির পদ ধরে রাখলেন মুস্তারী বেগম
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গোয়ালপোখর-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখলেন সভাপতি মুস্তারী বেগম এবং সহকারী সভাপতি সোমা বেগম। সোমবার এই আস্থা ভোটে জয়লাভ করে দু’জনেই নিজেদের অবস্থান বহাল রাথলেন দুজনেই।এই জয়ের ফলে পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতা দখলের বিরোধীদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হলো। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে, যখন সভাপতি মুস্তারী বেগম এবং সহকারী সভাপতি সোমা বেগমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হয়।
অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই অনাস্থা প্রস্তাবের নেপথ্যে ছিলেন দলেরই একাংশের অসন্তুষ্ট সদস্যেরা। এর পর থেকেই গোয়ালপোখর-১ ব্লকের রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয় ব্যাপক চাপানউতোর। শাসকদলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসায় তৈরি হয়েছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। আইনি নিয়ম মেনে সোমবার পঞ্চায়েত সমিতি কার্যালয়ে আস্থা ভোটের আয়োজন করা হয়। ৪১ সদস্য বিশিষ্ট গোয়ালপোখর-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে এদিনের ভোটাভুটিতে উপস্থিত ছিলেন মোট ২৮ জন সদস্য। অনুপস্থিত ছিলেন বাকি ১৩ জন। ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়া ২৮ জন সদস্যের সকলেই সভাপতি মুস্তারী বেগম ও সহকারী সভাপতি সোমা বেগমের পক্ষে ভোট দেন। এর ফলে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে জয়লাভ করেন তাঁরা।
আস্থা শাসকদলের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার মদতেই দলের একাংশ অনাস্থা প্রস্তাব এনে বোর্ডের পতন ঘটানোর চক্রান্ত করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল পঞ্চায়েত সমিতিতে অস্থিরতা তৈরি করা। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের সেই চক্রান্ত সফল হতে দেননি অনুগত পঞ্চায়েত সদস্যরা। আস্থা ভোটকে ঘিরে যাতে পঞ্চায়েত সমিতি চত্বরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অশান্তি না ঘটে, তার জন্য মহকুমা পুলিশ প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। কার্যালয় ও তার আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ বাহিনী। ভোটের খবর ছড়াতেই গোটা এলাকা জুড়ে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে প্রক্রিয়া শেষে কোনো অশান্তি ছাড়াই মুস্তারী বেগম ও সোমা বেগমের জয় নিশ্চিত হওয়ায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তাঁদের অনুগামীরা। এই জয়ের ফলে গোয়ালপোখর-১ ব্লকে শাসকদলের বর্তমান বোর্ড আরও কিছুটা শক্তিশালী হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।
