উত্তরবঙ্গে বাড়ল সতর্কতা, তিস্তা-বালাসনসহ নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি ও পাহাড়ি ঢালের জলরাশি জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে তিস্তা এবং বালাসন নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ব্যাপক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। নেপালে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এবং পার্বত্য অববাহিকায় জল জমা হওয়ায় তার প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে। তিস্তা নদীর জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলাধারে জলের চাপ বাড়ায় নদীর গতিপথের নিম্নাঞ্চলে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি দার্জিলিং পাহাড় থেকে নেমে আসা বালাসন নদীতেও জলস্তর বেশ কিছুটা বেড়েছে। বর্ষার মরশুমে উত্তরবঙ্গের এই প্রধান নদীগুলি এমনিতেই বিপজ্জনক রূপ নেয়, তার ওপর প্রতিবেশী নেপালের এই আবহাওয়াগত প্রভাব নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। নদীর গর্জন এবং ক্রমাগত জল বাড়তে দেখে নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। পাহাড়ের বিপজ্জনক বাঁক থেকে শুরু করে সমতলের নদী তীরবর্তী জনবসতিগুলিতে সকাল থেকেই শুরু হয়েছে জোরদার প্রচার অভিযান। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা মাইক হাতে নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে গবাদি পশু চরাতে, মাছ ধরতে বা অন্য কোনো দরকারে নদীর বাঁধের খুব কাছাকাছি যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিপজ্জনক জলস্ফীতির কারণে নদীতে নামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।নদীর জলস্তরের আচমকা পরিবর্তন বা জল বাড়ার লক্ষণ দেখলেই স্থানীয় পঞ্চায়েত, পুরসভা বা নিকটবর্তী থানায় দ্রুত খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। কালিম্পং, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছে। পার্বত্য এলাকার নদীপথগুলিতে বিশেষ নজরদারি টিম মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে উপর থেকে কোনো হড়পা বান বা বেশি জল নেমে এলে নীচের অঞ্চলকে সময়মতো অ্যালার্ট দেওয়া যায়। একই সাথে গজলডোবা ব্যারাজ সহ বিভিন্ন সেচপ্রকল্পের জলাধারগুলির জলছাড়ার পরিমাণের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বালাসন নদীর আশপাশে অবস্থিত শিলিগুড়ি সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতেও সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আকস্মিক কোনো বিপত্তি ঘটলে যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়, তার জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী ও নৌকা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা জনিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। নদীগুলির জলস্তর বাড়লেও এখনই বড় কোনো বন্যার আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে না। তবে পাহাড়ি নদীগুলির চরিত্র অনিশ্চিত হওয়ায় কোনো রকম ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। নেপালের পরিস্থিতির প্রভাব নদীগুলির ওপর কতটা পড়ছে, সে বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত আপডেট নিচ্ছি। মানুষ যাতে আতঙ্কিত না হন, তার জন্য আমরা সঠিক তথ্য দিয়ে তাঁদের সতর্ক করছি। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে প্রতিটি নদীপাড়ের বাসিন্দাকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রশাসনের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।বর্তমানে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং শিলিগুড়ি মহকুমার প্রশাসনিক কন্ট্রোল রুমগুলিকে ২৪ ঘণ্টা চালুরাখা হয়েছে। স্থানীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলিও সম্পূর্ণ সতর্কতায় রয়েছে।
