বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

হালিশহর পুরসভার বেহাল পরিষেবা, বন্ধ বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

07 September, 2026 3:11 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা,হালিশহর: পৌরসভার বেহাল পরিষেবা এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়া বেতনের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল হালিশহর পুরসভা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং কর্মীদের বেতন বন্ধ থাকার প্রতিবাদে সোমবার হালিশহর পুরসভা অভিযানের ডাক দেয় সিপিআই(এম)। দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে সিপিএম কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুরসভার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দ্রুত এই অচলাবস্থা না কাটলে এবং বকেয়া পাওনা না মিটলে আগামী দিনে পুরো উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে আরও তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গত কয়েক মাস ধরেই হালিশহর পুরসভার দৈনন্দিন পরিষেবা ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। প্রতিটি ওয়ার্ডেই নিকাশি ব্যবস্থা খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সঠিক সময়ে আবর্জনা সাফাই না হওয়ায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে থাকছে বর্জ্যের পাহাড়, যার ফলে এলাকা জুড়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব। বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি পানীয় জলের অনিয়মিত সরবরাহ এবং সন্ধ্যার পর রাস্তার আলো না জ্বলার মতো মৌলিক সমস্যাগুলিও নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে নাগরিকদের। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ট্যাক্স সময়মতো দেওয়া সত্ত্বেও পুরসভা থেকে ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবাটুকু পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, পুরসভার এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুরকর্মীদের ওপর। তাদের অভিযোগ বিগত কয়েক মাস ধরে পুরসভায় স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। বিশেষ করে অস্থায়ী সাফাই কর্মী, আলো বিভাগের কর্মী এবং নিকাশি কর্মীরা মারাত্মক আর্থিক অনটনের মুখে পড়েছেন। সংসার চালানো থেকে শুরু করে সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। উৎসবের মরশুম সামনে তাই বকেয়া বেতন না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশায় দিন কাটছে এই শ্রমজীবী মানুষদের। বিক্ষোভ চলাকালীন সিপিআই(এম) নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, স্থানীয় পুর প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কারণেই আজ হালিশহরের মতো ঐতিহ্যবাহী পুরসভার এই করুণ দশা। সাধারণ মানুষ ট্যাক্স দিয়েও পরিষেবা পাচ্ছেন না, আর দিনরাত পরিশ্রম করেও কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না—এ এক নজিরবিহীন নৈরাজ্য। পুরভবনের সামনে আয়োজিত পথসভায় বক্তারা স্পষ্ট জানান যে, দ্রুত তহবিল পরিচালনা সঠিকভাবে করে বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সিপিএমের একটি প্রতিনিধি দল পুরসভার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলি হল, অবিলম্বেই পুরসভার সমস্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়া বেতন এককালীন পরিশোধ করতে হবে। নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার, নিয়মিত জঞ্জাল অপসারণ এবং পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ সুনিশ্চিত করে পুর পরিষেবা স্বাভাবিক করতে হবে। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশা মারার তেল ও ব্লিচিং পাউডার ছড়াতে হবে। চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ ও তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার বন্দোবস্ত করতে হবে। যদিও এই বিক্ষোভ ও স্মারকলিপির বিষয়ে পুর প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, কেবল মুখে আশ্বাস দিলে চলবে না, বাস্তবক্ষেত্রে কাজ দেখতে চায় জনগণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পুরসভা স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছেন বাম নেতৃত্ব।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik