আমিষ খেলে ‘পাষন্ড’!, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শমীক-তথাগত
কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম এই রাজ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অনুমতি পেয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই অনুষ্ঠানেই দুর্গাপুজোর বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তিনি সরাসরি আক্রমণ করে বলেছেন, দুর্গাপুজোর সময় যারা আমিষ খান তারা পাষন্ড। তাঁর মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। তবে বিজেপি নেতা তথাগত রায় বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নবরাত্রি ও দুর্গাপুজোর সময় তিনি নিজে আমিষ আহার করেন, এবং এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সোমবার পুজোয় আমিষ-নিরামিষ বিতর্কে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাগেশ্বর বাবার ‘পাষন্ড’ মন্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।
জন্মাষ্টমীর দিন লিলুয়াতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষের কাছে আবেদন করে, দুর্গাপুজোর সময় কোনও পুজোমন্ডপে যেন আমিষ খাবার পরিবেশন বা ভোগ নিবেদন না করা হয়। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরোধিতা করে মন্তব্য়। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েই আলোচনা শুরু হয়েছে।
তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। তিনি বলেন, “হিন্দু বিদ্বেষীদের মরিয়া ও একগুঁয়ে বোকামি কৌতূহল জাগাচ্ছে। বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী হয়তো নবরাত্রির সময় আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করতে পারেন। আমি তাঁর সঙ্গে একমত নই। নবরাত্রির সময় আমি আমিষ খেলেও আমি শতভাগ হিন্দু। হিন্দুত্বে অর্ধ-বিশ্বাস বলে কোনও ধারণার অস্তিত্ব নেই। এই বৈচিত্র্যই হিন্দুত্বের মূল নির্যাস। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা থাকতে পারে, কিন্তু তিনি যা বললেন তা কোনও ফরমান নয়। আমি ধীরেন্দ্র ব্রহ্মচারী, মনুসংহিতা কিংবা কুরআন-হাদিস- কাউকেই আমার জীবন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দি না।”
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “দুর্গাপুজোয় পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কে কী খাবে, তা নিয়ে আমাদের কোনও বাধা নেই। যার যা ইচ্ছে খাবে, যার যা পরার পরবেন। বাংলার মানুষকে খাওয়া দাওয়া নিয়ে কিছু বলার নেই। বাঙালির যা ইচ্ছে তাই খাবে। অনেক অষ্টমীর দিন লুচি খান, অনেকে নবমীতে পাঠার মাংস খান। বাঙালি মাছ-মাংস খাবে না? বাগেশ্বর বাবা কী বললেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। তিনি আবেদন করেছেন। আবেদন করতেই পারেন। উনি যেটা বলেছেন, তাতে বিতর্কের প্রয়োজন।”
