বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক

04 September, 2026 3:08 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

কিয়েভ, ৪ সেপ্টেম্বর : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনার আবহে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর জেলেনস্কি ভারতের শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ভারতের পক্ষ থেকে যুদ্ধের অবসানে সহযোগিতা করার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেন স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য শান্তি চায়। বৈঠকে তিনি যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, খাদ্য সরবরাহ এবং ইউক্রেনের বন্দর ও খাদ্য পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। রুশ হামলার কারণে বন্দর ও খাদ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। জয়শঙ্করও স্পষ্ট করে দেন যে, ভারত সংঘাতের অবসানে গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে এস জয়শঙ্কর

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের অবসানে সহযোগিতা করতে ভারত প্রস্তুত। ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল সংঘাতের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব। এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। জয়শঙ্করের কিয়েভ সফর এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশেই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে ভারতের পক্ষ থেকেও কিয়েভে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শান্তি আলোচনার বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভারতের অবস্থান একই সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, আবার ইউক্রেনের সঙ্গেও নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিকবার রুশ ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ভারতের এই নীতির মূল লক্ষ্য হল সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভারত ও ইউক্রেনের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য, কৃষি, ওষুধ, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। জয়শঙ্করের এবারের সফরে তাই যুদ্ধ-সংক্রান্ত কূটনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC