রাম মন্দিরের প্রথম সিইও প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্তা
লখনউ: ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্ট’-এর প্রথম সিইও হতে চলেছেন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্তা জিতেন্দ্র মিশ্র। বুধবার এক বৈঠকের পর এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্রর নাম ঘোষণা করেছে ট্রাস্ট। ভারতীয় বায়ুসেনার এই অবসরপ্রাপ্ত কর্তা ১৯৮৬ সালে যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর পড়াশোনা পুণের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে। বেঙ্গালুরুর এয়ার ফোর্স পাইলট স্কুল থেকে পাশ করেছেন। এছাড়া আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের কলেজেও লেখাপড়া করেছেন তিনি। অপারেশন সিঁদুরের সময় সামলেছেন বায়ুসেনার পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব। ৩৮ বছরেরও বেশি সময় বাহিনীতে থাকার পর গত মে মাসেই অবসর নেন জিতেন্দ্র মিশ্র। কর্মরত অবস্থায় সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল ও বিশিষ্ট সেবা মডেলে সম্মানিত হয়েছেন। এবার শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন সফর। রামমন্দিরের ট্রাস্টের কাজকর্ম পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলাবেন তিনি।
মাস তিনেক আগের ঘটনা। মন্দিরের দানবাক্স, অনুদানের টাকা, সোনাসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে গরমিলের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে। তারপরই অবস্থা সামাল দিতে পূর্ণ সময়ের সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাস্ট। ৬ জুলাই থেকে সিইও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৫,৫৮৫টি আবেদনপত্র দফায় দফায় যাচাই করার পরে প্রথমে ১১১ জন প্রার্থীকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে ১৬ জনকে অযোধ্যায় ডাকা হয় ইন্টারভিউয়ের জন্য। জানা গেছে, সিইও বাচাই কমিটির তিন সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে চতুর্বেদী এবং শিল্পপতি সুরেশ হাওয়ারে সোমবার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মহন্ত নৃত্যগোপাল দাসের কাছে শর্টলিস্ট করা তিন জনের নামের একটি মুখবন্ধ খাম জমা দেন। তারপরই বুধবার দুপুরে বৈঠক হয় রাম জন্মভূমিতে। সেখানেই মন্দিরের প্রথম সিইও হিসেবে বেছে নেওয়া হয় জিতেন্দ্র মিশ্রকে। জানানো হয়েছে, দক্ষতা,দূরদর্শিতা,প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বেছে নেওয়া হয়েছে জিতেন্দ্র মিশ্রকে। তিনি রাম মন্দিরের ম্যানেজমেন্ট ও মন্দিরের আর্থিক লেনদেনের দায়িত্বে থাকবেন।
উল্লেখ্য, রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় ৮ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পরই রাম মন্দির ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রাই ।
