ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ড: শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা ডেরেক ও’ব্রায়েনের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে পুরসভা ও পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমবার তলব করলেও হাজিরা দেননি ডেরেক। বুধবার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এদিন থানায় হাজিরা দিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন।
মঙ্গলবার এই একই মামলায় শেক্সপিয়র থানায় হাজিরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে 5 ঘণ্টা পর থানা থেকে বেরোন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের মিথ্যা কেসে ফাঁসাচ্ছে পুলিশ ও বিজেপি। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন যেভাবে চমকাচ্ছেন, তা অভাবনীয়। উনি যদি মনে করেন, আমাদের কর্মীদের গ্রেফতার করবেন মিথ্যা কেসে, হেফাজতে নিয়ে অত্যাচার করবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমাদের বারুইপুরে এক কর্মীকে হেফাজতে অত্যাচার করা হয়েছে। কোনও নোটিশ ছাড়া অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরোটাই অবৈধ। নোটিশ ছাড়া গ্রেফতার করা যায় না। নিয়ম মানছে না পুলিশ। পুলিশের দোষ নেই। কারণ তারা সরকারের কথা মতো কাজ করছে। অভিষেক আরও জানান, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্য়া। তিনি দাবি করেন, ‘সব ভিডিও আমাদের কাছে আছে। পুলিশ কর্মী বা অফিসাররা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে ছেঁচড়াতে ছেঁচড়াতে নিয়ে এসেছিল। সেই সব প্রমাণ আছে। মুখ্যমন্ত্রীর এত ভয় কেন? তিনি যদি সত্যিই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেন, তাহলে ক্ষমতায় আসার পর দিন থেকেই কেন তিনি তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করতে শুরু করলেন।”
গত বৃহস্পতিবার ঘটনাটির সূত্রপাত। সেদিন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর থেকে একটি বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন। পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে অভিষেকের দলের লোকেদের অশান্তি হয়। পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। এই শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়। মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা, শ্লীলতাহানির চেষ্টার মামলাও রুজু হয়। সঙ্গে ছিল পুলিশ ও পুরসভাকে কাজে বাধা দেওয়ার FIR। তার ভিত্তিতেই অভিষেককে তলব করেছিল শেক্সপিয়র সরণী থানা। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তিনটি এফআইআর-ই দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানায়। তার মধ্যে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন পুরসভার আধিকারিক, অন্যটি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্ট। অভিযোগ, অভিষেকের দফতরে সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং মারধর করা হয়েছে। এমনকি, মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা, শ্লীলতাহানির চেষ্টার মামলাও রুজু হয়েছে। তার পরেই বাড়িতে নোটিস দিয়ে তলব করা হয় অভিষেক, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে।
