প্রয়াগরাজে বায়ুসেনা ঘাঁটির কাছে বাজি বিস্ফোরণ, নিহত ১১, ধসে পড়ল ৭টি বাড়ি
প্রয়াগরাজ : উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ-কৌশাম্বী সীমান্তে এক বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল চারপাশ। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ২৫ জন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ১৫ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কৌশাম্বী জেলার মহম্মদপুর গ্রামে, যা প্রয়াগরাজ সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। এলাকাটি মানৌরি এয়ারফোর্স স্টেশন থেকে মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় বিস্ফোরণের তীব্রতায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে প্রায় ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিকট শব্দের এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, তার ধাক্কায় কারখানার চারপাশে ৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা ৫ থেকে ৭টি বসতবাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়ে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ২ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকা ধোঁয়ার ঘন আস্তানায় ঢেকে যায়। ভেতরে থাকা বাজিতে একের পর এক শৃঙ্খল বিস্ফোরণ (chain explosions) হতে থাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করতে বেগ পেতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগেই আহত ও রক্তাক্ত মানুষদের চারপায়া বা খাটিয়ায় চাপিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায় প্রতিবেশীদের।
খবর পেয়েই অকুস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও এয়ারফোর্সের যৌথ উদ্ধারকারী দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, কারখানাটির মালিক আদিল নামে এক ব্যক্তি। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এয়ারফোর্স স্টেশনের এত কাছে কীভাবে এমন বিপজ্জনক বাজি কারখানা চলছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
