বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে মেয়ের স্কুলের ফি মেটাতে ৪৭ বছরের মায়ের খালি পায়ে দৌড়

31 August, 2026 4:59 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নাগপুর : বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র সরকারের বড় বড় উন্নয়ন ও বিজ্ঞাপনী প্রতিশ্রুতির ভিড়ে আড়ালেই রয়ে গেছে এক নির্মম ও করুণ বাস্তব। শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের কষ্ট কতটা গভীরে পৌঁছলে এক মা-কে সন্তানের স্কুলের ফি মেটাতে এভাবেই প্রাণপণ লড়াইয়ে নামতে হয়, তার এক হৃদয়বিদারক ছবি ফুটে উঠল রাজ্যে।

মহারাষ্ট্রের বিড় জেলার অম্বাডোগাই অঞ্চলের এক ৪৭ বছর বয়সী দরিদ্র মা রমালাই রণবীরকে তাঁর মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে খালি পায়ে, পরনে সাধারণ শাড়ি জড়িয়ে দৌড়াতে হলো ম্যারাথন রেসে। মাত্র ৩,০০০ টাকার পুরস্কারমূল্য জিতে মেয়ের অমূল্য শিক্ষার অধিকার বাঁচিয়ে রাখার এই করুণ অথচ সাহসী কাহিনি আজ নাড়িয়ে দিয়েছে সচেতন নাগরিক মহলকে।

অম্বাডোগাই শহরের ভারতীয় শিক্ষণ প্রসারক সংস্থার খুলেশ্বর এডুকেশনাল কমপ্লেক্সের ‘অমৃত মহোৎসব’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল ‘অমৃত দৌড়’ নামের এক ম্যারাথনের। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ চক থেকে শুরু হয়ে ভাগ্যনগর চক পর্যন্ত প্রসারিত এই দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বহু তরুণ-তরুণী।

আধুনিক স্পোর্টস শু, ট্র্যাক স্যুট আর ব্র্যান্ডেড পোশাক পরে যেখানে তরুণ প্রজন্ম লাইনে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক সেখানেই অতি সাধারণ এক শাড়ি আর সস্তা হাওয়াই চটি পায়ে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ৪৭ বছরের রমালাই। দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত এই মায়ের সামনে তখন একটাই লক্ষ্য— প্রতিযোগিতায় জিতে পুরস্কারের ৩,০০০ টাকা ছিনিয়ে আনা, যা দিয়ে মেটানো যাবে মেয়ের আটকে থাকা স্কুলের ফি।

প্রতিযোগিতা শুরু হতেই রমালাই যখন দৌড়াতে শুরু করেন, তখন তাঁর সাধের চটি জোড়া পিছলে গিয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গতিপথের। কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের সামনে কোনো বাঁধাই যে বাধা নয়, তা মুহূর্তেই প্রমাণ করলেন তিনি। চটি জোড়া খুলে দুই হাতে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে শাড়ির কুঁচি সামলে খালি পায়েই পিচ ঢালা কঠিন রাস্তায় ছোটেন তিনি। পায়ের নিচে খসখসে পিচ, ইটের টুকরো কিংবা ধারালো নুড়ি পাথর— কোনো কিছুই তাঁর অদম্য জেদকে থামাতে পারেনি। ট্র্যাক সু পরা ঝকঝকে তরুণ প্রতিযোগীদের একে একে পেছনে ফেলে রাস্তার সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি পৌঁছান জয়ের দোরগোড়ায়।

সবাইকে তাক লাগিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন ৪৭ বছরের এই সংগ্রামী নারী। উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক ও আয়োজকরা এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন। যে পুরস্কারের অর্থ আধুনিক সমাজের মানুষের কাছে অতি সামান্য, সেই সামান্য ৩,০০০ টাকার নগদ পুরস্কারই এই দরিদ্র মায়ের কাছে হয়ে ওঠে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার শেষ সম্বল।

বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রে যেখানে বেটি বাঁচাও, বেটি পঢ়াওয়ের মতো চটকদার স্লোগান নিয়ে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, সেখানে অম্বাডোগাইয়ের এক সাধারণ নারীকে সামান্য ৩,০০০ টাকা শিক্ষা ফি-র জন্য খালি পায়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে এই ঘটনা রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম কঙ্কালসার রূপকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। ৪৭ বছরের রমালাই রণবীর ট্রফি ও পুরস্কার হাতে পান ঠিকই, কিন্তু তাঁর এই অসামান্য জয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকা অমানবিক দারিদ্র্য আর মায়ের নিরুপায় লড়াইয়ের করুণ গল্পটি বিজেপি শাসিত এই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee