বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

৩৯ বছরে কি বয়সের ক্লান্তির থাবা? ফ্ল্যাশিং মিডোতে জোকারের বিদায়ে কি সেই ইঙ্গিত ?

31 August, 2026 4:39 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিউ ইয়র্ক : সময় কাউকে করুণা করে না !

ক্রীড়াবিশ্বের এক চিরন্তন সত্য। যে নোভাক জোকোভিচকে টেনিস বিশ্বের সবচেয়ে মানসিকভাবে শক্তিশালী এবং শারীরিক সক্ষমতার এক অনবদ্য প্রতীক হিসেবে দেখা হতো, আথার অ্যাশ স্টেডিয়ামের গরম আর আর্দ্র বাতাসে সেই কিংবদন্তিকেই থমকে যেতে দেখল বিশ্ব। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক নোভাক ২০২৬ সালের ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডেই হেরে বিদায় নিলেন। আর্জেন্টিনার মারিয়ানো নাভোনের কাছে ৭-৬(৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ সেটে এক মহাকাব্যিক ও নাটকে ভরা ৫ সেটের যুদ্ধে পরাজিত হলেন সার্বিয়ান মহাতারকা। ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ম্যারাথন লড়াই শুধু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছিল না, এটি হয়ে উঠেছিল নিজের ভেঙে পড়তে থাকা শরীর ও বয়সের অলিখিত নিয়মের বিরুদ্ধে এক মরিয়া সংগ্রাম।

২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নিউ ইয়র্কের কোর্টে নেমেছিলেন প্রাক্তন এক নম্বর তারকা। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরম আর আর্দ্রতার মধ্যে নিজের শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী ডোকোভিচ। প্রতিটি চেঞ্জওভারে ঘাড় ও মাথায় বরফের প্যাক জড়িয়ে নিজেকে চাঙ্গা করার চেষ্টা চালাতে দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু আসল বিপর্যয় নেমে আসে ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে। তৃতীয় সেটে পয়েন্ট চলাকালীন অসুস্থ বোধ করায় কোর্টের বিজ্ঞাপনী বোর্ডের পেছনে গিয়ে বমি পর্যন্ত করতে হয় এই সার্বিয়ান তারকাকে। মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও অসাধারণ মানসিক জোর দেখিয়ে দর্শকাসনে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থককে পাশে টেনে তৃতীয় সেটটি নিজের নামে করে নেন জোকার।

ম্যাচের একপর্যায়ে দুই-এক সেটে এগিয়ে গিয়ে এবং চতুর্থ সেটে ব্রেক পয়েন্ট অর্জন করেও সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বয়স এবং অতিরিক্ত শারীরিক কষ্টের কারণে শেষ রক্ষা হয়নি। আর্জেন্টাইন প্রতিপক্ষ নাভোনে যখন একের পর এক ধারালো বেসলাইন শটে ডোকোভিচকে কোণঠাসা করছিলেন, তখন ডোকোভিচের শরীর আর তাঁর মনের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিল না। চতুর্থ সেটে ৬-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর শারীরিক পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে যে, নির্ণায়ক পঞ্চম সেট শুরুর আগে জরুরি মেডিক্যাল টাইম-আউট নিতে বাধ্য হন তিনি। নিম্নাংশের পিঠের মারাত্মক যন্ত্রণায় তখন কাতরাচ্ছেন ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের অধিপতি।

ফিজিওর চিকিৎসার পর চেয়ার আম্পায়ারকে হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে থাম্বস-আপ সংকেত দিয়ে তিনি যখন পুনরায় কোর্টে নামেন, আথার অ্যাশ স্টেডিয়াম তখন করতলে ফেটে পড়েছিল। দীর্ঘ দুই দশকের কেরিয়ারে ডোকোভিচ বারবার দেখিয়েছেন, তিনি কোনোদিন সহজেই হার মানেন না। কিন্তু এবারের গল্পটা একটু অন্যরকম ছিল। ডোকোভিচের অভিজ্ঞতা, অদম্য জেদ এবং হাজার হাজার ভক্তের উন্মাদনাকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় জীবনের অমলিন নিয়ম— বয়স ও শারীরিক সীমানা।

নির্ণায়ক পঞ্চম সেটে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি সার্বিয়ান জাদুকর। শেষ পর্যন্ত ৬-১ ব্যবধানে পঞ্চম সেটটি জিতে নিয়ে ইতিহাস গড়েন নাভোনে। প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় ইউএস ওপেনের অন্যতম দাবিদারের। তবে কোর্ট ছেড়ে বের হওয়ার সময় ফল যাই হোক না কেন, স্টেডিয়ামের সর্বস্তরের দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান জানান এই ৩৯ বছর বয়সী যোদ্ধাকে। জয়ের আনন্দের চেয়েও আথার অ্যাশ স্টেডিয়ামে তখন ভাসছিল এক বিষাদময় নীরবতা, যেখানে এক মহাতারকাকে নিজের শরীরের সঙ্গে লড়াই করে পরাজিত হতে দেখেছে ক্রীড়াবিশ্ব।

২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের মালিক নোভাক কি তবে টেনিস কোর্টে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে উপনীত হয়েছেন?

আগামী ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার ইচ্ছার কথা তিনি আগে ব্যক্ত করলেও, নিউ ইয়র্কের এই ৪.৫ ঘণ্টার নাটকীয় যুদ্ধ স্পষ্ট করে দিল যে বয়সের ভার ও শারীরিক ক্লান্তি এখন ডোকোভিচের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। শরীর বিদ্রোহ না করলে হয়তো ফল অন্যরকম হতো, কিন্তু এই হার যেন ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিল— শতাব্দীর অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়টির শরীরও আজ সময়ের নিয়মে ক্লান্তি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee