এবার হড়পা বান মার্কিন মুলুকে! নিখোঁজ ২০
নিউ ইয়র্ক: নেপালের পর এবার আমেরিকা। হড়পা বানে এখনও নিখোঁজ কমপক্ষে ২০ জন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৬২ জনকে। ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্ক এলাকার একটি ধাতব কাঠামো। জলের তোড়ে কাগজের মত ভেসে যেতে দেখা গেছে বড় বড় পাথরের চাঁই! ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে একাধিক ফুটব্রিজ। ধ্বংসাবশেষে ভরে গেছে কলোরাডো নদী। সঙ্গে ছিল প্রবল বালি, পাথর, কাদার স্রোত। স্থানীয় সময় তখন শনিবার দুপুর ২–৩০ মিনিট। কলোরাডো নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়া ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকে হঠাৎই আসে হড়পা বান। চোখের পলকে জলস্তর বাড়তে থাকে। বিপুল জলরাশি রীতমত ফুঁসতে শুরু করে। তছনছ হয়ে যায় ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন এবং ফ্যান্টম র্যাঞ্চ অঞ্চল। ফ্ল্যাগস্টাফের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ জাস্টিন জন্ড্রো জানিয়েছেন, মাত্র আধঘণ্টায় প্রায় ১ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের খাড়া জমিতে বৃষ্টির জল দ্রুত নীচের দিকে নেমে গিয়ে ভয়াবহ স্রোত তৈরি করে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বেশি পরিমাণ জল মাটিতে শুষে নেওয়ার আগেই গড়িয়ে নেমে যায়। তার ফলেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। জানানো হয়েছে, ‘ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক’ উত্তর প্রান্ত থেকে কলোরাডো নদীর দিকে নেমে এসেছে এবং প্রায় ৬,০০০ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো দুর্গম ও খাড়া এলাকা মুহূর্তেই ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রকৃতির সেই তাণ্ডবলীলার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা গেছে, বিরাট বিরাট ঢেউ খেলনার মতো ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, মানুষজন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বন্যার জেরে খালের তলদেশ অনেকটাই চওড়া হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে কলোরাডো নদীর মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন একটি খরস্রোত। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এর ফলে বদলে গিয়েছে এলাকার ভূপ্রকৃতি। নদীর গতিপথে তৈরি হয়েছে নতুন ভূমিরূপ। আছড়ে পড়েছে কলোরাডো নদীতে। এর জেরে ঐতিহাসিক ক্যান্টিন ও ডরমিটরি সমৃদ্ধ ওই এলাকায় নদীপথে র্যাফটিংও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হড়পা বানের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, নর্থ কাইবাব ট্রেলের একাংশ, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকার একটি ভাগ। এই এলাকাগুলিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। ‘ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড’, ‘ফ্যান্টম র্যাঞ্চ’ এবং ‘নর্থ কাইবাব ট্রেইল’–এর কিছু অংশের মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এলাকায় আরও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
