অঙ্কিত খুনে দুই সন্দেহভাজন খতম এনকাউন্টারে
লখনউ: ফের এনকাউন্টার উত্তরপ্রদেশে। এবার মৃত্যু হল হরিয়ানার জনপ্রিয় গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানের খুনের ঘটনায় জড়িত থাকা দুই সন্দেহভাজনের। শামলি জেলায় নাকা চেকিংয়ের সময় পুলিশের জালে পা দেয় দুজন । শুরু হয়ে দুপক্ষের গুলির লড়াই। শেষে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয় দুই সন্দেহভাজনই। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
শামলির পুলিশ সুপার নরেন্দ্রপ্রতাপ সিং জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শামলিতে ঢোকা এবং বেরনোর রাস্তায় কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছিল। ‘চেকিং’ ছাড়া কোনও গাড়ি বা বাইককে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতেও পুলিশি নজরদারি চলছিল। সোমবার ভোরে ৪টে নাগাদ কারনালের দিক থেকে একটি বাইক আসে। পুলিশ সেটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে দুষ্কৃতীরা গুলি চালাতে শুরু করে। কর্তব্যরত এসএইচও বীরেন্দ্র কাসানা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও তাঁর গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনিই অন্যান্য পয়েন্টে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের সতর্ক করে দেন।
এরপর দুষ্কৃতীদের বাইকটি কাইরানার দিকে যায়। সেখানে থাকা এসএইচও ধর্মেন্দ্র গৌতম বাইকটি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুষ্কৃতীদের গুলিতে তাঁর গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়। এরপর সব পয়েন্টে থেকেই পুলিশ গুলি চালাতে শুরু করে। তখনই দুই সন্দেহভাজনের গুলি লাগে। ঠিক কী কারণে অঙ্কিতকে খুন করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গত বুধবার সন্ধেয় শামলিতেই জিম সেরে ফেরার পথে আক্রান্ত হন হরিয়ানার জনপ্রিয় গায়ক অঙ্কিত বালিয়ান। দু’টি মোটর বাইকে চেপে মোট চারজন তাঁকে লক্ষ্য করে ১৮ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। গায়ককে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। এরপরই অঙ্কিত খুনের দায় স্বীকার করেছিল একটি গোষ্ঠী। জানিয়েছিল কুখ্যাত ‘গোগী গ্যাং’–এর সঙ্গে তাদের সখ্য রয়েছে। ঘটনার তদন্তে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে পুলিশি এনকাউন্টারে ২৩ জন নিহত হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে। যোগীর সরকারের ৯ বছরের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে মোট এনকাউন্টারের সংখ্যা ১৭,০৪৩টি। গত মে মাসেই ৪৮ ঘণ্টায় ৩৬টি এনকাউন্টার হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে।
