বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

কথা শোনেনি নেপাল, অভিযোগ বিজ্ঞানীদের, রাত পর্যন্ত শুধুই হাহাকার !

26 August, 2026 7:58 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

কাঠমান্ডু : সতর্কতা এসেছিল সাত বছর আগে।

কিন্তু অভিযোগ, কে কার কথা শোনে। বুধবার সকালে হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে অনেক ঘণ্টা। এবার টনক নড়ছে নেপালের। এর মধ্যে যা শেষ হওয়ার তা শেষ হয়ে গিয়েছে। সকাল থেকে রাত শুধু হাহাকার শোনা যাচ্ছে হিমালয়ের কোলে। মৃত্যু মিছিল যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যাও। সরকারি সূত্রে দাবি, শতাধিক ভারতীয়-সহ নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

পড়শি বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কঠিন সময়ে নেপালের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, যত দ্রুত সম্ভব নেপালে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজেও ভারতীয় দল হাত লাগিয়েছে। সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সেখানকার হড়পা বান এবং বন্যায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য সমবেদনা জানিয়েছি। এই কঠিন সময়ে নেপালের ভাইবোনেদের পাশে রয়েছে ভারত। নেপালে সম্ভাব্য সমস্ত রকম মানবিক সাহায্য প্রদানে প্রস্তত আমরা। উদ্ধারকাজে আমাদের দল সহায়তা করছে।’’

নেপালে বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন শতাধিক ভারতীয় পর্যটকও। কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়েছিলেন তাঁরা। পড়শি দেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকের তথ্য ও খবরাখবর নেওয়ার জন্য বিদেশ মন্ত্রক দু’টি জরুরি নম্বর প্রকাশ করেছে— +৯৭৭৯৮৫১৩১৬৮০৭ এবং +৯৭৭৯৭০৯১০৭৫০০। নেপালের বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের সহায়তা এবং তথ্যের জন্য ওই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে নয়াদিল্লি।

উদ্ধারকাজ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কাজে তাঁদের সাহায্য করছে ভারত। বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। সে দেশের পর্যটন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় (৩৭ জন অনাবাসী-সহ) রয়েছেন। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল কিছু ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, নদীর জল এবং কাদামাটির স্রোত প্রবল বেগে ধেয়ে এসেছে লোকালয়ের দিকে। ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু। ওই সমস্ত ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। মৃত বা আহতের সংখ্যা এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান চলছে। সেই সঙ্গে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।

বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করছেন, তুষারধসের কারণেই বুধবার নেপালের ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বান নেমেছিল। ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পরে জানিয়েছেন, তুষারধসের জেরে পাথর ও বরফের স্তূপে অবরুদ্ধ হয়েছিল নদীর গতিপথ। জমে যাওয়া জলের চাপে হঠাৎই সেই ‘অবরোধ’ ভেঙে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় হড়পা বান।প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত মিলেছে যে একটি তুষারধস লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল।

পাশাপাশি, হিমবাহের বরফগলা জলে পুষ্ট কোনও হ্রদও ফেটে গিয়েছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ জানাচ্ছেন, হড়পা বান এসেছিল চিন অধিকৃত তিব্বতের দিক থেকে। কায়স্থ বলেন, “নেপালের দিক থেকে তুষারধস নেমে সীমান্তবর্তী এলাকায় লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল বলে তথ্য মিলেছে।” তিনি জানান, প্রায় একই সময়ে তিব্বতের দিকে একটি ভূমিকম্পও হয়েছিল।

মার্কিন সংস্থা ‘ইউএস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে’ জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বতীয় ভূখণ্ডে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। যার এপিসেন্টার রসুয়া জেলার গোঁসাইকুণ্ডের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসেও ভোটেকোশী নদীতে একই ধরনের হড়পা বান আঘাত হেনেছিল। সে সময় অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছিল যে, রাসুয়ায় নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহের হ্রদ ফেটে যাওয়ার কারণে লেহন্দে নদীতে আচমকা জলস্রোত নেমেছিল।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee