ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জোড়া গোল লোবার, ৫-১ ব্য়বধানে জয় লাল-হলুদের

পুনে: আইএসএলে থামছেই না ইস্টবেঙ্গলের জয়রথ। প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারানোর পর এবার বিদেশিহীন ইন্টার কাশীকে ৫-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করল লাল-হলুদ। পুরনো দল বলে কোনও রেয়াত করেননি কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। জোড়া গোল করলেন আকে লোবা, আরেক বিদেশি লুকাস জিলিনস্কিও পেলেন গোল। এসিএল ২-এর কঠিন পরীক্ষার আগে পুনের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামের এই বড় জয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে দলকে।
সামনে এসিএল ২-এর ম্যাচ থাকায় প্রথম ম্যাচের পর প্রথম একাদশে একাধিক বদল করেন হাবাস। রক্ষণে বিশ্রাম দেওয়া হয় দিয়েগো জিভুলিচকে। শুরু থেকে মাঠে নামেন পিভি বিষ্ণু, বিপিন সিং ও লোবা, আর তিনজনই নিজেদের প্রমাণ করেন। সমর্থকরা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন লোবার পারফরম্যান্সে। এখনও পুরোপুরি ফিট না হলেও তাঁর গতি, বল কাটিয়ে দৌড়নো এবং ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা নজর কাড়ে। তাঁকে সামনে রেখেই শুরু থেকে আক্রমণের ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৮ মিনিটেই এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। কাশীর রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে আলতো ছোঁয়ায় গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে বল জালে ভাসিয়ে দেন র্যামিরেজ। ১৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ে। বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে র্যামিরেজের নেওয়া জোরহীন শট ঠিকমতো ধরতে পারেননি কাশীর গোলকিপার আলবিনো গোমস, তাঁর হাতের ফাঁক গলে বল জালে জড়ায়।
২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লাল-হলুদ জার্সিতে প্রতীক্ষিত প্রথম গোলটি পান আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার লোবা। যদিও পেনাল্টি আদায়ের মূল কৃতিত্ব র্যামিরেজের, যিনি বক্সে ঢুকে বিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করেন। মাঝে কিছুটা তাল কাটে লালচুংনুঙ্গার ভুলে। গোটা ম্যাচেই তাঁকে ছন্নছাড়া দেখিয়েছে। ২৮ মিনিটে তাঁর আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় কাশী। তবে সেই সুখ বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩৫ মিনিটে বিপিনের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ৪-১ করেন লোবা। শুধু ফিনিশিং নয়, সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছনোর ক্ষমতাও প্রশংসার দাবি রাখে। দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পাননি লোবা। তাঁকে তুলে নামানো হয় জিলিনস্কিকে। ৮১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পান তিনিও। এর আগে মহম্মদ রশিদকেও তুলে নেন হাবাস, না হলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যেতে পারতেন লাল-হলুদ অধিনায়ক। খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়ায় শেষ দিকে আক্রমণের ঝাঁঝ হারায় ইস্টবেঙ্গল। তবু দু’ম্যাচে ৯ গোল করে মাত্র একটি গোল হজম করেছে দল। গত মরশুমে গোলপার্থক্যই শেষ পর্যন্ত শিরোপা এনে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। এবারও চ্যাম্পিয়নের মেজাজেই ছুটছে লাল-হলুদ।
