বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
চোরবাগান কাণ্ডে তদন্তে সিট, আটক ঘোষক দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ নেহা বোরা পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে ইন্ডি জোট দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জনে বাধা নেই, কিন্তু মন্ডপ হুবহু এক রাখতে হবে, জানাল তদন্ত কমিটি

22 October, 2026 9:28 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগান মণ্ডপের প্রতিমা নিরঞ্জন হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বৃহস্পতিবার মণ্ডপ পরিদর্শনের পর রাজ্য সরকারের গড়া বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানিয়ে দিলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনে কোনও বাধা নেই। তবে মণ্ডপ যেমন আছে, ঠিক তেমনই রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ ছ’সদস্যের সিট চোরবাগানের মণ্ডপে পৌঁছয়। অনিন্দিতার সঙ্গে ছিলেন আইপিএস অফিসার জাভেদ শামিম-সহ অন্যান্যরা। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরের অংশ ঘুরে দেখেন তদন্তকারীরা। কোথায় কী রয়েছে, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ কেমন, ঠিক কী ঘটেছিল, সবই খতিয়ে দেখা হয়। মণ্ডপের ভিডিও করা হয়। ঘটনার সময় মণ্ডপের যে অবস্থা ছিল, এখনও তা অবিকল একই রকম রয়েছে। অনিন্দিতা বলেন, “আমরা সবটাই দেখলাম।”

দুর্ঘটনার পর থেকেই অভিযোগ উঠছিল, মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলো ছিল না। সিটও সেই অভিযোগকে মান্যতা দিয়েছে। সিট প্রধান বলেন, “সেই সময় যেমন আলো ছিল, সে ভাবেই রাখা হয়েছে। আলো খুবই কম ছিল।” পাশাপাশি তিনি জানান, মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তা অত্যন্ত সরু। তাঁর মতে, ওই পথে এত মানুষ ঢুকে পড়ায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সিট প্রধান আরও জানান, পুজোর মণ্ডপের ভিতরে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি ঘটেছে প্রস্থান গেটের ঠিক বাইরে। নিরঞ্জন প্রসঙ্গে অনিন্দিতা স্পষ্ট করে দেন, “ঠাকুর নিরঞ্জন হতে পারে, সেটা দেখে নিয়েছি। কিন্তু প্যান্ডেল এইরকমই থাকবে। আমি প্যান্ডেল হুবহু এমনই রাখতে চাইছি। সে ভাবেই নিরঞ্জন করতে হবে।” অর্থাৎ তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপের কাঠামো ও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রাখা হবে। সিট জানিয়েছে, মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন কাজে যুক্ত সকলের সঙ্গেই কথা বলা হবে। শিল্পীর সঙ্গেও কথা বলা হবে। পদপিষ্টের ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিটের বক্তব্য, তাঁরা সকলেই তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে থাকবেন। মণ্ডপে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

ঘোষকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে

অভিযোগ, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে মণ্ডপ থেকে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল, “মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে।” ঘোষণায় সবাইকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে বলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে হুড়োহুড়ি আরও বাড়ে। ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন ঘোষকদের এক জনকে নদিয়া থেকে আটক করা হয়েছে, অন্য জন এখনও অধরা। সিট প্রধান জানান, ঘোষকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। মণ্ডপ পরিদর্শনের পর সিটের তদন্ত এবার সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলা ও দায়িত্ব নির্ধারণের দিকে এগোবে। পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকা নিয়ে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার।

প্রতিবেদন

UTSAB RC