বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

যোটক বিচার কী?‌ কেন?‌

22 August, 2026 3:52 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

জ্যোতিষাচার্য রাণা চক্রবর্তী

বহু যুগ আগে থেকেই আমাদের দেশে বিয়ের ব্যাপারে যোটক বিচারের প্রচলন আছে। কিন্তু যোটক বিচার আসলে কী?‌ অনেকের মনেই এ বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণত গুণের মিলনকেই যোটক বিচার বলা হয়ে থাকে। যদিও এটা বিজ্ঞান সম্মত নয়। কিন্তু প্রাচীন ভারতে যেহেতু জ্যোতিষকে বিজ্ঞানেরই একটি শাখা হিসেবে মান্যতা দেওয়া হতো, তাই সম্পূর্ণ বৈজ্ঞনিক দৃষ্টিভঙ্গী দিয়েই যোটক বিচার করতে হবে। কোনও যুগল যখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দিকে পা বাড়ায়, তখন ভবিষ্যতে তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, আত্মীয়–স্বজন বা দুই পরিবারের মধ্যে কীরকম সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে সে সবই জাতক–জাতিকার জন্মছক বিচার করে বলা সম্ভব।
শুধুমাত্র গুণ বিচার না করে বিশেষ কিছু জিনিসের ওপর যোটক বিচারের ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে। যার মধ্যে অন্যতম উভয়ের লগ্ন ও লগ্নপতির বিশ্লেষণ। চতুর্থ ভাব থেকে সপ্তম ভাব এবং একাদশ ভাব সবসময়ই বিবাহের বিচার্য বিষয় হওয়া উচিত। কারণ লগ্ন জাতকের শরীর–স্বাস্থ্য, মানসিকতা ইত্যাদি নির্দেশ করে। চতুর্থভাবে গৃহপরিবেশ, পরিবার, মা–বাবার অবস্থান বোঝায়। অন্যদিকে যে নতুন মানুষ জীবনে আসছে সপ্তম ভাব তার অবস্থা নির্দেশ করে। সবশেষে একাদশ ভাব জাতক–জাতিকার ভবিষ্যত জীবন কেমন হতে পারে, মনের মিল বা পারস্পরিক বোঝাপড়া কতখানি থাকতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
এই ভাবের বিশেষ গ্রহরা জাতকের জন্মছকে ঠিক কোন ঘরে বসে রয়েছে এবং ঠিক সেই ভাবে একই গ্রহ জাতিকার জন্মছকেও ঠিক কোন ঘরে বসে রয়েছে তা বিশ্লেষণ করেই যোটক বিচার করা উচিত। এইভাবে প্রত্যেকটি ভাবের ক্ষেত্র সূক্ষ্ণভাবে বিশ্লেষণ করে তবেই বিয়ের বিষয়ে পাকাপাকি সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এরপরও যদি আরও গভীর বিশ্লেষণমূলক বিচারে আসার কথা ভাবেন, তাহলে অবশ্যই কোনও ভালো জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বিয়ের আগে ঠিকঠাক যোটক বিচার না করার ফলে পাত্রপাত্রীর সাংসারিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিচ্ছেদ ঘটে যাওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়। সাংসারিক জীবনে শান্তি এবং স্থিরতা আনতে যোটক বিচার তাই অবশ্যই প্রয়োজন। ‌

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik