তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান পঞ্চায়েত সদস্যদের
সংবাদদাতা, মালদহ: বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শক্তি বাড়াতে মরিয়া কংগ্রেস। এবার মালদহের রতুয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ধস নামিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল হাত শিবির। রতুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ জন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য দল ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। পঞ্চায়েত সদস্যদের এই ব্যাপক দলবদলের ফলে রতুয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গতকাল বিকেলে রতুয়া জুনিয়র বেসিক স্কুল প্রাঙ্গণে যোগদান কর্মসূচির মাধ্যমে এই দলবদল প্রক্রিয়া শেষ হয়। এদিনের মঞ্চ থেকে নবাগত ১২ জন পঞ্চায়েত সদস্য এবং তাঁদের বহু সমর্থকের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, শুধুমাত্র পঞ্চায়েত সদস্যরাই নন, তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের বহু সক্রিয় কর্মী-সমর্থকও এদিন কংগ্রেসের নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগদান করেছেন। এই যোগদান কর্মসূচিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর, মানিকচকের প্রাক্তন বিধায়ক মুত্তাকিন আলম এবং রতুয়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি পরিতোষ সিনহা-সহ দলের অন্যান্য জেলা ও ব্লক স্তরের নেতা-কর্মীরা। সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয় দলকেই তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলীয় বক্তারা দাবি করেন, সাধারণ মানুষ শাসকদলের অপশাসন ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এবং বিকল্প হিসেবে একমাত্র কংগ্রেসের ওপরই ভরসা রাখছেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর বলেন, তৃণমূল ছেড়ে রতুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক সদস্য ও কর্মী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের দলে যোগ দিলেন। এতেই প্রমাণিত হয় যে মানুষের আস্থা এখন কংগ্রেসের প্রতি।
শুধু রতুয়া নয়, জেলার প্রতিটি ব্লকেই এখন কংগ্রেসে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। বক্তব্যের মাঝে নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে শাসক দল ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন মৌসম নূর। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে নানাভাবে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শাসক ও বিরোধী উভয় দলই কংগ্রেসের উত্থানকে ভয় পাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, কংগ্রেসকে যত চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে, দল ততটাই শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। ভয় দেখিয়ে কংগ্রেসকে থামানো যাবে না। একযোগে ১২ জন পঞ্চায়েত সদস্যের দলবদলের জেরে রতুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা ও রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।
