চেয়ারম্যান পদে চন্দ্রশেখরণের মেয়াদ বৃদ্ধি, অনুমোদন টাটা সন্সের
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: গত ১২ আগস্টের ঘটনা। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর দায়িত্বে থাকবেন না তিনি। এরপরই টাটা গোষ্ঠীর অন্দরের অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। কিন্তু মাত্র ১ মাস পাঁচ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার টাটা শিল্পগোষ্ঠী জানিয়ে দিল আগামী পাঁচ বছরের চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকবেন চন্দ্রশেখরন। কিন্তু টাটা সন্সের এই ঘোষণাকে নোয়েল টাটার নেতৃত্বাধীন টাটা ট্রাস্ট ‘বেআইনি’ বলে ঘোষণা করেছে। ফলে একপ্রকার সামনে চলে এল টাটা গোষ্ঠীর ভেতরের ডামাডোল।
টাটা গোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৩৮ লক্ষ কোটি টাকা নিয়ন্ত্রণ করে টাটা সন্স। মোট ৩০টি সংস্থা পরিচালনার ভার রয়েছে তার ওপর। এদিকে ‘টাটা সন্স’–এ ৬৬ শতাংশ অংশীদারি রয়েছে টাটা ট্রাস্টস–এর। গত ফেব্রুয়ারিতে চন্দ্রশেখরনের মেয়াদবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিয়েছিল টাটা সন্স। তারপরই পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন চন্দ্রশেখরন। জানিয়েছিলেন, হঠাৎ ইস্তফার ফলে কোনও অসুবিধে যাতে তৈরি না হয় এবং যাতে মসৃণভাবে নেতৃত্ব হস্তান্তর হতে পারে তার স্বার্থেই ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত মেয়াদ পুরো করবেন তিনি। ধারণা করা হয়েছিল, টাটা ট্রাস্টস এবং টাটা সন্সের মধ্যে ঝঞ্ঝাটের কারণেই তিনি সরে যেতে চেয়েছিলেন। জানা যায়, টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান শুধুমাত্র নোয়েল টাটাই চন্দ্রশেখরনের মেয়াদবৃদ্ধির বিরোধিতা করেছিলেন। নোয়েল চেয়েছিলেন, টাটা সন্স যেন শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত না হয়। কিন্তু চন্দ্রশেখরন এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি ছিলেন না। এদিকে টাটা সন্স বোর্ডের বৈঠকে নোয়েল ছাড়া অন্য সব সদস্যই চেয়ারম্যান পদে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন। ফলে সহজেই প্রস্তাব পাস হয়ে গিয়েছে।
শেয়ার বাজারে নাম লেখাতে না চেয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে আবেদনও করেছিল এই সংস্থা। কারণ, কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি হিসাবেই থেকে যেতে চেয়েছিল টাটা সন্স। কিন্তু দিনকয়েক আগেই সেই আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ ব্যাঙ্ক। তারপরেই টাটার মসনদে ফের বসানো হল চন্দ্রশেখরনকে।
২০১৭ সালে টাটা গোষ্ঠীর প্রথম অ–পার্সি চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন এন চন্দ্রশেখরন।
