যুবপ্রজন্মের মধ্যে সনাতনী চেতনা জাগিয়ে তোলার বার্তা শুভেন্দুর
সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির অডিটোরিয়ামে সঙ্ঘ পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি করসেবায় ‘শহিদ’ কলকাতার দুই বীর সন্তান রাম কোঠারি ও শরদ কোঠারির স্মরণে ‘রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মানজ্ঞাপন’ শীর্ষক এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিগত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সময়কালের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাজ্য প্রশাসনের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আগে ৬ ডিসেম্বর রাম জন্মভূমি আন্দোলনের বীর সন্তানদের স্মরণে শৌর্য দিবস পালনের অনুমতি পর্যন্ত মিলত না। বিরোধী দলে থাকার সময় আমার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নানা আইনি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে হাত বাঁধা ছিল। কিন্তু আজ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। বাংলায় এবার থেকে আর সাধুসন্ত ও রাষ্ট্রবাদী চেতনার অপমান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি আজকের যুব সমাজের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে সনাতনী ও রাষ্ট্রবাদী চেতনা।
রাজ্যের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং সুরক্ষার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, পশ্চিমবাংলার জনবিন্যাস আশঙ্কাজনকভাবে বদলে গিয়েছে। রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের কঠোর ও ধারাবাহিক কাজ করতে হবে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সীমান্ত পার করার ব্যবস্থা করা অন্যতম অগ্রাধিকার। কেন্দ্রে ও রাজ্যে সমন্বয় রেখে সীমান্ত এলাকাকে আরও সুরক্ষিত করার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শকে পুনরায় বাংলার প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি ও সনাতনী চেতনার প্রসারে সঙ্ঘের সাংগঠনিক ভিত্তিকে গ্রাম ও শহরের তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রবাদী মূল্যবোধ সংরক্ষণ, প্রান্তিক অঞ্চলের উন্নয়ন এবং জাতীয় সংহতি রক্ষায় এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতেও ক্রমাগতভাবে পরিচালিত হবে। শহিদ কোঠারি ভ্রাতৃদ্বয়ের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাঁদের পরিবার ও একাধিক বিশিষ্ট সমাজসেবীকে এই মঞ্চ থেকে সম্মানিত করা হয়।
