বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

হাবড়া থানার SI-এর রহস্যমৃত্যু, ব্যারাকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

14 September, 2026 5:00 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, হাবড়া: উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থানার ব্যারাক থেকে এক সাব-ইনস্পেক্টরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম বিশ্বনাথ সেন। তিনি বারাসাত জেলা পুলিশের অধীনে হাবড়া থানায় সাব-ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। থানার মতো নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় একজন কর্মরত পুলিশ অফিসারের এই রহস্যমৃত্যু নিয়ে জেলা পুলিশ মহলে চরম অস্বস্তি ও একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে আদালতের কাজে বারাসত জেলা আদালতে যাওয়ার কথা ছিল এসআই বিশ্বনাথ সেনের। সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও নির্দেশ নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই থানা চত্বরে তাঁর দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি ডিউটিতে না পৌঁছানোয় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।তাঁকে ডাকার জন্য একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরছিলেন না তিনি। টানা ফোন বাজলেও সাড়া না মেলায় উদ্বিগ্ন সহকর্মীরা হাবড়া থানারই পুলিশ ব্যারাকে অবস্থিত তাঁর ঘরের দিকে যান। ব্যারাকে পৌঁছে সহকর্মীরা দেখেন বিশ্বনাথবাবুর ঘরের দরজা ভিতর থেকে শক্তভাবে বন্ধ করা রয়েছে। বাইরে থেকে বারবার ধাক্কা দিয়ে এবং নাম ধরে ডেকেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। এর পরেই সন্দেহ তীব্র আকার ধারণ করে। বাধ্য হয়ে উপস্থিত অন্য পুলিশকর্মীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। ঘরের ভিতরে ঢুকেই হতবাক হয়ে যান সকলে। দেখা যায়, ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন বিশ্বনাথ সেন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ব্যারাকের মতো জায়গায় এক পুলিশ কর্তার এমন পরিণতিতে থানা চত্বর জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, এর নেপথ্যে মূল কারণ কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। সাম্প্রতিককালে তাঁর ওপর কাজের অতিরিক্ত মানসিক চাপ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সহকর্মীদের একাংশের মতে, তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে। বিশ্বনাথবাবুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড এবং শেষ কয়েক ঘণ্টার বার্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে তিনি কার কার সাথে কথা বলেছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পরেই হাবড়া থানার উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা ব্যারাকে পৌঁছান এবং ঘরটি সিল করে দেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বারাসাত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে আসলেই মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে। বারাসাত জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সব দিক খতিয়ে দেখে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হবে।থানার নিজস্ব আবাসন থেকে একজন অভিজ্ঞ এসআই-এর এভাবে আচমকা চলে যাওয়া কেবল হাবড়া থানাতেই নয়, সমগ্র জেলা পুলিশ প্রশাসনকে গভীর স্তব্ধতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC