বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

আজই আপনার কাজের শেষ দিন, মেইল পাঠিয়েই ছাঁটাই ওরাকলের

15 September, 2026 3:26 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি: সবে দিন শুরু হয়েছে। ঘড়িতে তখন ভোর ৬টা। ঠিক এই সময়েই ইনবক্সে ঢুকে পড়ে অফিসের মেল। তাতে স্পষ্ট লেখা— ‘আপনার পজিশন নিয়ে একটা খারাপ খবর আছে। আজই আপনার শেষ কর্মদিবস।’ এমনই করুণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন মার্কিন টেক সংস্থা ওরাকল-এর বহু কর্মী। সোমবার সংস্থার একাধিক বিভাগ জুড়ে পাঠানো হয় এই বার্তা। মেল পাওয়ার পরপরই বহু কর্মী দেখেন, তাঁদের অফিসের মেল, ভয়েসমেল, ফাইল অ্যাক্সেস— সবই নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। ঠিক কতজন কর্মীকে এ দিন ছাঁটাই করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি সংস্থা।

এই ছাঁটাই নতুন কিছু নয়— বরং চলতি অর্থবর্ষ জুড়েই ব্যাপক কর্মী-সংকোচনের পথে হেঁটেছে ওরাকল। গত মে মাসে শেষ হওয়া ২০২৬ অর্থবর্ষেই সংস্থা থেকে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২১ হাজার কর্মী, যা সংস্থার মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ। মার্চ মাসেও একই ধরনের আকস্মিক মেল পেয়েছিলেন বহু কর্মী। বিনিয়োগ সংস্থা টিডি কাওয়েনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন দফায় আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার কর্মীর চাকরি যেতে পারে— যা ওরাকলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা। ইমেলে ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ‘সাংগঠনিক ক্ষেত্রে ব্যাপকতর পরিবর্তন’-এর কথা— একটি সার্বিক ও অস্পষ্ট ব্যাখ্যা, যেখানে নির্দিষ্ট কোনও কর্মীকে ঠিক কেন সরানো হচ্ছে, তা আলাদা করে জানানো হয়নি।

কেন এই সিদ্ধান্ত

আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে সংস্থার ‘এআই’ কেন্দ্রিক রূপান্তরে। OpenAI-এর সঙ্গে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্লাউড-কম্পিউটিং চুক্তি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালতে হচ্ছে ওরাকলকে। বিশ্লেষকদের হিসেবে, একা এআই পরিকাঠামো গড়তেই গত অর্থবর্ষে প্রায় ৫৫.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে সংস্থা, যার জেরে সংস্থার ফ্রি ক্যাশ ফ্লো নেমে গিয়েছে ঋণাত্মক পর্যায়ে। উপরন্তু, ক্রেডিট রেটিং হ্রাসের কারণে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিপুল জামানত জমা রাখার শর্তও চাপানো হয়েছে সংস্থার ঘাড়ে। এই আর্থিক চাপ সামলাতেই কর্মী-সংকোচনের পথে হাঁটছে ওরাকল, যাতে সাশ্রয়ী অর্থ এআই পরিকাঠামো নির্মাণে ঢালা যায়।

মানবিকতার প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সংকট নিছক অর্থনৈতিক নয়, বরং তার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর এক সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয়ের চিত্র। যে কর্মীরা বছরের পর বছর নিজেদের শ্রম দিয়ে সংস্থাকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাঁদের বিদায় জানানো হচ্ছে কোনওরকম পূর্ব-আলোচনা বা ন্যূনতম সৌজন্য ছাড়াই— নেহাতই একটি ডিজিটাল বার্তার মাধ্যমে। প্রযুক্তির অগ্রগতির নামে মানুষের জীবিকা এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ব্যাপকভাবে— এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের বিনিময়ে মানবিকতার মূল্য ঠিক কতটা দিতে হচ্ছে, তা নিয়েই এখন জোরালো বিতর্ক।

প্রতিবেদন

UTSAB RC