বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

‘ভারতে আগের মতো আর শান্তি পাচ্ছি না!’ সঞ্জয় দত্তের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে গুঞ্জন

05 October, 2026 11:04 AM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

পারমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বলিউডের পর্দায় তাঁর পরিচয় কখনও ‘মুন্নাভাই’, কখনও ‘নায়ক’, কখনও আবার ‘খলনায়ক’। কিন্তু এবার পর্দার চরিত্র নয়, বাস্তবের একটি মন্তব্য ঘিরেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সঞ্জয় দত্ত।

গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে অভিনেতা শেখর সুমনের অনুষ্ঠান ‘শেখর টুনাইট’-এ হাজির হয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন একটি মন্তব্য করেন, যা প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।

সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘The people of this country are so lovely. There should be peace here. I can’t feel that peace in our country anymore.’ অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হল, দেশের মানুষ অত্যন্ত ভালো, ভারতীয়রা উদার ও অতিথিপরায়ণ। কিন্তু সেই আগের শান্তির অনুভূতি তিনি আর পাচ্ছেন না। তিনি প্রার্থনা করেন যেন সেই দিনগুলি আবার ফিরে আসে।

এই একটি বক্তব্যই যথেষ্ট ছিল সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলার জন্য। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত কেন এমন কথা বললেন? এখানেই রয়েছে আসল বিষয়। অনুষ্ঠানটি ছিল গান্ধী জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে। সেখানে সঞ্জয় দত্ত তাঁর জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ চরিত্রের ভঙ্গিতে গান্ধীবাদ, শান্তি, সম্প্রীতি এবং ‘গান্ধীগিরি’র কথা বলেন। গান্ধীর বিখ্যাত তিন বাঁদরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি মজার ছলে বলেন, খারাপ দেখো না, খারাপ শুনো না, খারাপ বলো না। কিন্তু তাঁর মতে আজ যেন একটি চতুর্থ বাঁদরও প্রয়োজন, যে খারাপ কিছু দেখলে তা ঠিক করার চেষ্টা করবে। অর্থাৎ বক্তব্যটির মধ্যে একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক স্তরও ছিল। তবে তিনি সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করেননি। বরং তাঁর কথার কেন্দ্রে ছিল, দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের প্রয়োজন।

তবু এত বিতর্ক কেন? কারণ সঞ্জয় দত্তের একটি বাক্য— ‘I can’t feel that peace in our country anymore’—সামাজিক মাধ্যমে অনুষ্ঠানের বিস্তৃত প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় প্রশ্ন। কী এমন পরিবর্তন হয়েছে যার কারণে একজন জনপ্রিয় অভিনেতার মনে হচ্ছে দেশে আগের মতো শান্তি নেই?

প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি দেশের সামাজিক পরিবেশের কথা বলছেন? নাকি রাজনৈতিক পরিস্থিতির? নাকি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনের? নাকি শুধুই গান্ধীজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সংলাপ? এই প্রশ্নগুলির কোনওটিরই সরল উত্তর তাঁর মূল বক্তব্যে নেই। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে বিতর্কের জায়গা।

বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর সঞ্জয় দত্ত নিজেই তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। ৪ অক্টোবর তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা ছিল না। তাঁর দাবি, কথোপকথনটি ছিল অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি চিত্রনাট্যেরই একটি অংশ। অর্থাৎ অনুষ্ঠানের জন্য আগে থেকেই তৈরি করা একটি হালকা ও হাস্যরসাত্মক কথোপকথনের অংশ ছিল সেটি।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, বক্তব্যটির ধরন ছিল তাঁর ‘মুন্নাভাই’ ছবির গান্ধীগিরি-র মতো। সেখানে ভালোবাসা, উষ্ণতা, একতা এবং শুভবোধের কথা বলা হয়। অর্থাৎ পরে সঞ্জয় দত্তের বক্তব্য দাঁড়ায়, তাঁর কথাকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়, সেটিকে অনুষ্ঠানের ব্যঙ্গাত্মক ও অভিনয়ভিত্তিক প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত। তা সত্ত্বেও বলা যায়— মুন্নাভাই, প্রশ্ন কিন্তু থেকেই গেল!

সঞ্জয় দত্তের এই ব্যাখ্যা অবশ্য বিতর্ক পুরোপুরি থামাতে পারেনি। কারণ একজন জনপ্রিয় অভিনেতা যখন বলেন, ‘আমি আর দেশে সেই শান্তি অনুভব করতে পারছি না’, তখন সেই কথার রাজনৈতিক অভিঘাত তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে গান্ধী জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যখন একই সঙ্গে উঠে আসে শান্তি, সম্প্রীতি, গান্ধীবাদ এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ। তবে মানুষ এই বক্তব্যকে কীভাবে দেখছে, সেটাই হল আসল কথা। কেউ মনে করতেই পারেন, তিনি একশো শতাংশ ঠিক কথা বলেছেন, কেউ বলতে পারেন, এটা আংশিক সত্য। আবার কেউ তাঁর জীবনের পুরনো প্রসঙ্গগুলি টেনে এনে বলতে পারেন, এই সব ফালতু কথা। দেশে অপার শান্তি বিরাজমান।

প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গী ভিন্ন হতেই পারে। সেটাই তো গণতন্ত্রের মূল শক্তি।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha