ডেঙ্গি নিয়ে নতুন নির্দেশিকা স্বাস্থ্য দপ্তরের
সংবাদদাতা, কলকাতা : রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজারের কাছাকাছি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। রাজ্যে সর্বাধিক সংক্রমণ মুর্শিদাবাদ জেলায়। তারপরই রয়েছে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি ও অন্যান্য জেলা। সংক্রমণের এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ে চিন্তায় চিকিৎসকমহল। এই উদ্বেগের মধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও স্বাস্থ্যভবন জারি করল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। যেখানে জানানো হয়েছে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে প্রথম তিন থেকে পাঁচদিন কীভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রথম দায়িত্ব সঠিক নজরদারি। জানানো হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রথম ৫ দিন জ্বর বেশি হলেও জটিলতার আশঙ্কা কম থাকে। তবে নজর রাখতে হবে রোগীর প্রস্রাব, ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে কি না, খিঁচুনি বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিচ্ছে কিনা। পরের ধাপ বিপদ সঙ্কেত চেনা। এক্ষেত্রে পরিবারের লোকজনকে জানতে হবে কোন কোন লক্ষণ দেখলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে পেটে ব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথার যন্ত্রণা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীরের যে কোনও জায়গা থেকে রক্তপাত ইত্যাদি। এরকম ক্ষেত্রে একটুও দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।
স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে বলা হয়েছে, যদি কোনও রোগীর জ্বর ১০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, যদি তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, তবে শুধু ডেঙ্গু নয়, আরও কিছু সংক্রমণের কথা মনে রাখতে হবে। যেমন: লেপ্টোস্পাইরোসিস, স্ক্রাব টাইফাস ইত্যাদি সংক্রমণও একসঙ্গে রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু হলেই প্লেটলেট দিতে হবে এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, প্লেটলেট কাউন্ট ২০ হাজারের কম হলে তবেই রোগীকে আলাদা করে প্লেটলেট দেওয়ার কথা কথা ভাবা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জ্বরের প্রথম ৫ দিনে ডেঙ্গু সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করতে হলে NS1 Antigen Test with ELISA করতে হবে। এটাই একমাত্র বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি। ৫ দিন পেরিয়ে গেলে রোগ নির্ণয় করতে হলে IgM পরীক্ষা করতে হবে।
