বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

হড়পা বানের গ্রাসে নেপালে একাধিক গ্রাম ও প্রকল্প এলাকা নিশ্চিহ্ন, বহু হতাহতের আশঙ্কা

26 August, 2026 2:16 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

কাঠমান্ডু : তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে এক বিপর্যয়কারী হড়পা বানের (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) তাণ্ডবে সম্পূর্ণ ভেসে গেল একাধিক গ্রাম এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এলাকা। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে ব্যাপক প্রাণহানি ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ভূত বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভোট কোশী নদীর উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল সরকার।

ধ্বংসের মুখে সিয়াপ্রু বেসি ও তিমুরে

সরকারি সূত্রে খবর, নেপালের প্রত্যন্ত ও দুর্গম পর্বতসংকূল জেলা রসুয়ার ‘সিয়াপ্রু বেসি’ এবং ‘তিমুরে’ অঞ্চলটি এই হড়পা বানের ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে চোখের পলকে ভেসে গেছে স্থানীয় বসতি ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের স্থান।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জেলার মুখ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার বলেন, “একাধিক গ্রাম এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প এলাকা সম্পূর্ণরূপে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বলে আমরা রিপোর্ট পেয়েছি। তবে দুর্যোগের মাত্রা এতটাই বেশি যে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা সম্পত্তির ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।” একই সাথে তিনি সতর্ক করে জানান, “প্রচুর মানুষের প্রাণহানি এবং বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি ধ্বংসের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

উদ্ধারকার্যে সেনা ও পুলিশ, সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নেমেছে দেশের প্রশাসন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বলেন) জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুততার সাথে পাঠানো হয়েছে।

এক প্রশাসনিক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদীর নিম্ন অববাহিকায় ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” সরকারের তরফে জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “নদী তীরের অধিবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সব সময় সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।”

ভোট কোশীর ভূ-রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভোট কোশী নদীটি তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপালের ত্রিশূলী নদীতে মিশেছে। পরবর্তীতে এই সম্মিলিত জলধারা ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ‘গণ্ডক’ নদী নামে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে এই নদীর চরম জলবৃদ্ধি নেপাল ছাড়িয়ে সংলগ্ন ভারতীয় অঞ্চলের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, তিব্বত সীমান্তের এই অঞ্চলে হড়পা বান বা হিমবাহ লেক উপচে পড়া জলের ঘটনা নতুন নয়। গত বছরেও এই ভোট কোশী নদীতে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। তিব্বতের একটি ‘সুপ্রাগ্ল্যাসিয়াল’ (হিমবাহের ওপর তৈরি হওয়া) লেক ভেঙে হঠাৎ জলপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই বন্যায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২৪ জন নিখোঁজ হন। শুধু তা-ই নয়, নেপাল ও চীনকে যুক্তকারী ঐতিহাসিক ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ বা মৈত্রী সেতুটি ভেসে যাওয়ার ফলে টানা কয়েক মাসের জন্য দুই দেশের আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

চলতি বছরের এই নতুন দুর্যোগ আবারও তিব্বত-নেপাল সীমান্ত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনযাত্রাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরা।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee