বিষাক্ত মদ খেয়ে ‘মদহীন রাজ্য’ নাগাল্যান্ডে ১৯ জনের মৃত্যু
নাগাল্যান্ড: রাজ্য মদ নিষিদ্ধ। তাই নাগাল্যান্ডে চোরাই ও ভেজাল মদের রমরমা কাণ্ড! সেই বিষাক্ত মদ খেয়েই গত দু’দিনে প্রায় ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন সে রাজ্যে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বেআইনি মদের সন্ধান পেতে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে নাগাল্যান্ড পুলিশ। উল্লেখ্য, কয়েকদশক ধরে মদ নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত নাগাল্যান্ড। সেই এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটায় চিন্তিত স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের মধ্যে ৮ জন মোকোকচুং জেলার এবং ১১ জন তুয়েনসাং জেলার বাসিন্দা। মদ খাওয়ার পরেই ওই ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
ঠিক কী কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে এবং মদে কোনও ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে মৃতদেহের নমুনা এবং বাজেয়াপ্ত করা মদের স্যাম্পল গুয়াহাটির বিশেষ ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাজ্য পুলিশের তরফে যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে, তার নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বুংলাং চ্যাং। পুলিশের দাবি, এই বিষাক্ত মদের মূল উৎস কোথায় এবং এটি সরবরাহের পেছনে কোন চক্র কাজ করছে, তা খুঁজে বের করাই প্রধান লক্ষ্য।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বেআইনি মদের ঠেকে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৩,০০০ বোতল বিষাক্ত ও বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নাগাল্যান্ডে ১৯৯০ সাল থেকেই নাগাল্যান্ড লিকার টোটাল প্রোহিবিশন অ্যাক্ট জারি রয়েছে। এই রাজ্যে মদ কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন বিশাল পরিমাণ ভেজাল মদ সরবরাহ হল এবং এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি ও সুরক্ষার গাফিলতি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কোনও অচেনা, লেবেলবিহীন বা সন্দেহজনক পানীয় না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, মদ পান করার পর কারও মাথা ঘুরলে, চোখে ঝাপসা দেখলে, বা শ্বাসকষ্ট কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাঁকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
