‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল গ্রেপ্তার, মাথার দাম ছিল ২ কোটি ২০ লক্ষ!
সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান। বাংলা–ঝাড়খণ্ড–ওড়িশা পুলিশের ঘুম উড়িয়ে দেওয়া সিপিআই (মাওবাদী)–র একমাত্র সক্রিয় সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ ওরফে দীপক ওরফে রাকেশ গ্রেপ্তার। ৬৪ বছরের আকাশের জন্য ঝাড়খণ্ডে ১ কোটি, ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার ভোরে এই সাফল্য পায় পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্স। তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে দুটি ব্যাগভর্তি মাও পত্র–পত্রিকা, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম প্রভৃতি।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার ফুলচকের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল। ছাত্রজীবন থেকেই অতিবামপন্থী কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। তার কাজের পরিধি ছড়িয়ে পড়ে সারেঙ্গা, গোয়ালতোড়সহ পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকাতেও। ২০০৪ সালে সিপিআই (মাওবাদী) গঠন হওয়ার পর জঙ্গলমহলে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন লালগড় আন্দোলনের সময়। ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। বাংলা–ঝাড়খণ্ড–ওড়িশা আঞ্চলিক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল তাঁর। মাওবাদী নেতা পলিটব্যুরো সদস্য কিষানজির মৃত্যুর পর মাওবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন অসীম। তবে ক্রমশ তার প্রতিপত্তি অনেকটাই দুর্বল হতে থাকে। তখন ৫০ জনেরও বেশি স্কোয়াড মেম্বারকে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে থাকতে শুরু করেন তিনি। গত ২২ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তার স্কোয়াডের ১৫ সদস্যের প্রাণ যায়। এর পরে ঘাঁটি বদল করে দলমার জঙ্গলে চলে যান অসীম। ‘মনোজ’ ছদ্মনামে সেখানে কাজকর্ম চালাতেন তিনি। আকাশের স্ত্রীও সিপিআই (মাওবাদী)–র সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি জেলেই আছেন।
তাঁর গতিবিধির খোঁজে সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় গত দু’দিন ধরে নজরদারি শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। জঙ্গলজুড়ে চলছিল চিরুনি তল্লাশি। একাধিক এলাকায় তল্লাশি চললেও প্রথম দিকে তাঁর কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। তারপরই সামনে আসে সাফল্যের খবর।
এদিকে শীর্ষ মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের জন্য কলকাতা পুলিশের এসটিএফ–কে প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘রাজ্য সরকার কোনও ভাবেই নিজের সীমানার মধ্যে লাল সন্ত্রাসকে পুনরুজ্জীবিত এবং তা ছড়াতে দেবে না।’
এদিকে মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডলকে আদালতে পেশের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অসীমের ওপরে অত্যাচার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বলেছে, ‘অবিলম্বে অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশকে আদালতে পেশ করা হোক। রাজ্য সরকার তথা পুলিশ প্রশাসন ঘোষণা করুক অসীম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অসীম মণ্ডল তাদের হেফাজতে আছে।
