বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান, ৭ গোলে জিতেও রানার্স লাল-হলুদ

19 September, 2026 5:41 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, বারাসত:  কলকাতা লিগের রাউন্ড রবিন পর্বে খুব ভাল খেলতে পারেনি মোহনবাগান। কোনওমতে প্রথম তিনে জায়গা করে নিয়েছিল তারা। কিন্তু সুপার সিক্সে সব হিসাব উল্টে দিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে চ্যাম্পিয়ন হল তারা। আট বছর পর কলকাতা লিগ ফিরল মোহনবাগান তাঁবুতে।

শনিবার বারাসত স্টেডিয়ামে মিনি ডার্বিতে মহমেডানকে ৩-২ গোলে হারাল মোহনবাগান। ম্যাচের অনেকটা সময় ১০ জনে খেলেও দমানো যায়নি বাগান ব্রিগেডকে। এদিন অন্য ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ৭-০ গোলে  হারিয়েছে কোল ইন্ডিয়াকে। মোহনবাগান-মহমেডান ম্যাচ ড্র হলে গোলপার্থক্যে চ্যাম্পিয়ন হত ইস্টবেঙ্গলই। কিন্তু মোহনবাগানের জয়ে কলকাতা লিগে হ্যাটট্রিক হল না লাল-হলুদের। শনিবারের জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট হল মোহনবাগানের। ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইস্টবেঙ্গল। ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে মহমেডান ও ভবানীপুর।

আরও পড়ুন: মিয়ামির জার্সিতে সেঞ্চুরি মেসির, চতুর্থ ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল বেকহ্যামের ক্লাব

কলকাতা লিগ ফিরিয়ে আনতে মরিয়া ছিল মোহনবাগান। প্রথম একাদশে ছিলেন শুভাশিস বসু, রাহুল ভেকে, দীপক টাংরি, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, সাহাল সামাদ ও মনবীর সিংহের মতো নিয়মিত প্রথম দলের ফুটবলাররা। শুরু থেকেই আক্রমণ শুরু করে মোহনবাগান। ছাংতে ও মনবীর বারবার চাপে ফেলছিলেন মহমেডান রক্ষণকে। অন্যদিকে মহমেডানের হয়ে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছিলেন লালরেমসাঙ্গা।২৬ মিনিটে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল। বক্সের মধ্যে সাহাল ও ছাংতে নিজেদের মধ্যে পাস খেলার পর ছাংতে উঁচু ক্রস বাড়ান। সেই বলে হেড করে জাল কাঁপান সাহাল।৪১ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েছিল মহমেডান। ফাইনাল থার্ডে বল পেয়ে ক্রস করেছিলেন ইসরাফিল দেওয়ান। সেটি ক্লিয়ার হয়ে গেলেও মহীতোষ রায় শট নেন, যা বাঁচিয়ে দেন মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষ। তবে পরের মিনিটেই সমতা ফেরায় মহমেডান। থানকিমার পাস পেয়ে জোরালো শটে দীপ্রভাতকে পরাস্ত করেন লালরেমসাঙ্গা।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ৫৪ মিনিটে কিয়ানকে লক্ষ্য করে ক্রস তোলেন ছাংতে। কিয়ান গোলে শট না নিয়ে হেডে বল বাড়িয়ে দেন সাহালের দিকে, কিন্তু মহীতোষ তা ক্লিয়ার করে দেন।কিছুক্ষণ পরেই মোড় ঘুরে যায় ম্যাচের। দীপ্রভাতকে ড্রিবল করে টপকে গিয়েছিলেন লালরেমসাঙ্গা, তাঁকে টেনে ফেলে দেন দীপ্রভাত। পেনাল্টি দেন রেফারি, সঙ্গে সরাসরি লাল কার্ড। ফলে রিজার্ভ গোলকিপার সৈয়দ জাহিদ হুসেন বুখারিকে নামাতে হয় মোহনবাগানকে। তিনি লালরেমসাঙ্গার পেনাল্টি আটকাতে পারেননি, ২-১ এগিয়ে যায় মহমেডান। কিন্তু হাল ছাড়েনি মোহনবাগান। ৭০ মিনিটে সাহালের গোলে ২-২ করে তারা। আর তিন মিনিট পরেই, ৭৩ মিনিটে, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোলে ৩-২ এগিয়ে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটেই ম্যাচের রং পুরোপুরি উল্টে যায়। বাকি সময় রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৩-২ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। জয়ের সঙ্গে সঙ্গে মরশুমের প্রথম ট্রফি ঢোকে মোহনবাগানের ঘরে। মোহনবাগান জেতায় স্বপ্নভঙ্গ লাল-হলুদ সমর্থকদের। কোল ইন্ডিয়াকে ৭ গোলে হারিয়েও শিরোপা জেতা হল না ইস্টবেঙ্গলের।

প্রতিবেদন

UTSAB RC