বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, জখম বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস
সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: সাগরদিঘী বিধানসভার ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এই দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ হঠাৎই ধুলিয়ানের বিড়ি কারখানা চত্বর এবং তার সংলগ্ন বিধায়কের বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে স্থানীয় বাসিন্দারা তখনই আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা শুরু করেন এবং থানায় খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলে দ্রুত তলব করা হয় দমকল বাহিনীকে। দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। শর্টসার্কিট থেকেই এই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। জানা গেছে, আগুন লাগার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই তাঁকে উদ্ধার করে বায়রনের নিজস্ব নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পরে মুর্শিদাবাদ সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছে। তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি। বিধায়কের বাড়ির চত্বরেই ছিল তাঁর নিজস্ব বিড়ি তৈরির কারখানা। অগ্নিকাণ্ডের জেরে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিড়ি তৈরির কাঁচামাল, গুদামজাত বিড়ি এবং বাড়ির আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। পুলিশ ও দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, রাজনৈতিক সমস্যা নয়, পারিবারিক অশান্তির জেরেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। জানা গেছে, একই বাড়িতে বায়রনের সঙ্গেই থাকেন তাঁর দাদা এবং দিদি। শুক্রবার রাতে দাদা-দিদির সঙ্গে চূড়ান্ত অশান্তি হয় বিধায়কের। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন বায়রন। তবে বাইরন নিজে গায়ে আগুন দিয়েছেন নাকি অন্য কেউ বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনুমান করা হচ্ছে, দুর্ঘটনাবশত নয়, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিধায়কের বাড়িতে। হাসপাতালসূত্রে খবর, আগুনে শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে বায়রনের। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিধায়ক বায়রনের দুর্ঘটনার খবরে মর্মাহত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়েছেন, “খোঁজ নেব। ওঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি”। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “খুব ভালো ছেলে। মনটা নিষ্কলঙ্ক। ওঁর অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবরে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। বাইরনকে হাসপাতালে দেখতে যাব ৷”
২০২৩ সালের মার্চ মাসে সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে লড়েছিলেন বাইরন। সে বার তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২২,৯৮০ ভোটে হারিয়ে প্রথম বার বিধায়ক হন। তবে ফলপ্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তৃণমূলে চলে যান।
