কার্শিয়াং থেকে মহানদী— পর্যটকদের জন্য চালু হল স্বল্প দূরত্বের দু’টি টয় ট্রেন
সংবাদদাতা, কার্শিয়াং: পাহাড়ের কোলঘেঁষে চলা ইউনেস্কো স্বীকৃত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের মুকুটে যুক্ত হল আরও এক নতুন অধ্যায়। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এবং পাহাড়ি উপত্যকার সৌন্দর্য আরও কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত দু’টি নতুন টয় ট্রেন পরিষেবা— ‘রেড পান্ডা’ এবং ‘মুক্তধারা’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।
রবিবার কার্শিয়াং রেলওয়ে স্টেশন থেকে এই দুই টয় ট্রেনের যাত্রার সূচনা করা হয়। ফিতে কেটে ও নারকেল ফাটিয়ে পরিষেবার সূচনা করেন উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রমেশ কুমার। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী এবং ডিএইচআরের এডিইএন রঞ্জিত টুডু সহ রেলওয়ের অন্যান্য আধিকারিকরা। উদ্বোধনের দিনেই ‘মুক্তধারা’ ট্রেনে কার্শিয়াংয়ের স্থানীয় বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে একটি বিশেষ জয়রাইডের আয়োজন করা হয়, যা তাদের রোমাঞ্চিত করে তোলে।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে বৈচিত্র্যময় করতে দু’টি ভিন্ন ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। মুক্তধারাটি ডিজেলচালিত ইঞ্জিনযুক্ত ট্রেন। প্রতিদিন দুপুর ৩টে ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে এটি। চা-বাগান এবং পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে বিকেল ৪টে নাগাদ মহানদী পৌঁছয়। এরপর মহানদী থেকে রওনা দিয়ে বিকেল ৫টা নাগাদ ট্রেনটির কার্শিয়াং স্টেশনে ফিরে আসার কথা রয়েছে। রেড পান্ডাটি বাষ্পচালিত ট্রেন। দার্জিলিং থেকে ঘুম রুটের মতো এই ট্রেনটিও পর্যটকদের পুরোনো দিনের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে দেবে।
বর্তমানে দার্জিলিং-ঘুম রুটের জনপ্রিয় টয় ট্রেন পরিষেবার মতো এই দুই নতুন পরিষেবাও প্রতিদিন চালুর পরিকল্পনা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের এই নতুন উদ্যোগ পাহাড়ি পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দার্জিলিং ও ঘুমের পাশাপাশি পর্যটকরা এবার কার্শিয়াং এবং মহানদীর মধ্যবর্তী মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, চা-বাগান এবং উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পাবে। নিয়মিত পরিষেবা চালুর ফলে পর্যটকদের যাতায়াতের বিকল্প যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই কার্শিয়াং ও সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিও আরও চাঙ্গা হবে। এই টয় ট্রেন পরিষেবা যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
