বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

টিফিনের জমানো টাকায় কাগজের দুর্গা গড়ল কিশোর বিক্রম

03 October, 2026 3:50 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, গাজোল: অভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অদম্য জেদ আর প্রতিভার জোরে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিল এক স্কুলছাত্র। টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে সামান্য কিছু টাকায় কাগজ আর কার্ডবোর্ড দিয়ে একচালার দুর্গাপ্রতিমা গড়েছে গাজোলের ক্লাস নাইনের ছাত্র  বিক্রম সরকার। তার এই সৃজনশীলতা ও শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ প্রতিবেশীরা। প্রায় এক মাস ধরে ধীরে ধীরে এই প্রতিমাটি তৈরি করেছে সে। প্রতিমার মূল কাঠামো গড়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও বাহন তৈরির কাজ। প্রায় দেড় ফুট উচ্চতা ও আড়াই ফুট চওড়া এই নান্দনিক একচালা দুর্গাপ্রতিমাটি তৈরি করতে বিক্রমের মোট খরচ হয়েছে ৫০০ টাকার মতো। যা সে নিজের হাতখরচ বাঁচিয়ে জমিয়েছিল। নিজের হাতে গড়া এই প্রতিমা নিয়ে বিক্রমের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর পাঁচ দিন বাড়িতেই প্রতিমাটি পুজো করার ইচ্ছে তার। পুজো শেষে প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সযত্নে রেখে দিতে চায় সে। তবে যদি কেউ এটি নিজের সংগ্রহে রাখতে চান, তবে তাকে প্রতিমাটি দিয়ে দিতেও আপত্তি নেই কিশোরের। বিক্রমের এই প্রতিভার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের আগ্রহ। জানা গেছে, একদম ছোট থেকেই দেবদেবীর মূর্তি তৈরির প্রতি তার প্রবল ঝোঁক। ৭-৮ বছর বয়স থেকেই কাগজ, কার্ডবোর্ড ব্যবহার করে রথ, জগন্নাথদেব, মনসা দেবী এবং গোপালের মূর্তি তৈরি করতে শুরু করে। এবার গড়ে ফেলল দুর্গাপ্রতিমা। বিক্রমের বাবা বিকাশ সরকার একটি কারখানায় ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেন। মা গৌরীদেবী গৃহবধূ। প্রতিকূল আর্থিক অবস্থার মধ্যেও ছেলের এই শখকে সবসময় সমর্থন জুগিয়েছেন তারা। বিক্রমের মা জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় টিফিনের জন্য যে ১০ টাকা দেওয়া হতো, তা থেকেই খরচ বাঁচিয়ে শখ পূরণ করেছে ছেলে। আজকের দিনে মোবাইল বা প্রযুক্তিতে সময় না কাটিয়ে যেভাবে সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে বিক্রম এটাই তার পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। বিক্রমের এই শিল্পকর্মে খুশি প্রতিবেশীরাও। এলাকার পুরোহিত আমন কুমার ঝা জানান, দেবদেবীর প্রতি বিক্রমের গভীর অনুরাগ। তার হাতের তৈরি এই দুর্গাপ্রতিমা অত্যন্ত প্রশংসা যোগ্য।

শিল্পকলার প্রতি এতটা ভালোবাসা থাকলেও বড় হয়ে শিল্পী হওয়ার বদলে পুলিশ অফিসার হতে চায় ১৫ বছরের এই কিশোর। সমাজের সুরক্ষা ও সেবামূলক কাজ করতেই আগ্রহ বিক্রমের।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik