চোরবাগান কাণ্ড: জুনিয়র ডাক্তারদের সাংবাদিক বৈঠক, ক্ষোভ মুখ্যমন্ত্রীর
সংবাদদাতা, কলকাতা : চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও চিকিৎসা মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগীদের বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই পুরো ঘটনা এবং মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশের করা প্রেস কনফারেন্স ঘিরেই ঘটনার সূত্রপাত।
এই সাংবাদিক সম্মেলনের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জরুরি পরিষেবা চলাকালীন ডিউটি ছেড়ে নেতার মতো সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া চিকিৎসা পরিষেবার নিয়মের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছবি দেখে চিহ্নিত করতে হবে যে ওই চিকিৎসকদের সেই সময় ডিউটি ছিল কি না। এই সংক্রান্ত রিপোর্ট সিএমও-তে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ডিউটি চলাকালীন বাইরে এসে এই ধরনের বিবৃতি দিলে তা বরদাস্ত করা হবে না।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন চিকিৎসকদের একটি অংশ। আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার দিন জুনিয়র ডাক্তাররা যা করার ছিল তাই করেছেন। তাঁদের কুর্নিশ জানানো উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, যে রোগীরা পরে বেসরকারি হাসপাতালে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, তাঁদের প্রাণ বাঁচানোর প্রাথমিক চিকিৎসাটি মেডিক্যাল কলেজেই হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জুনিয়র ডাক্তাররা প্রথম ঘণ্টায় সঠিক চিকিৎসা না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তাই সরকারের উচিত তাঁদের ধন্যবাদ জানানো।
তবে এই বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল অর্গানাইজেশন। সংগঠনের সভাপতি ডা. রুদ্রনীল নন্দী জানান, জরুরি অবস্থার মধ্যে ডিউটি ছেড়ে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মন্তব্য করা অনুচিত। সরকার তদন্ত করে দেখুক কারা অন ডিউটি ছিলেন। তবে নীতিগতভাবে ইমার্জেন্সি চলাকালীন এই ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকাই কাম্য বলে মনে করছে সংগঠনটি।
