বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণের কাজ শুরু ভারতের, পর্যটকদের ফেরাতে সক্রিয় দিল্লি

27 August, 2026 4:50 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি : নেপালের বন্যা পরিস্থিতিতে তীব্র জলরাশিতেও শান্ত ধ্যানমগ্ন গৌতমবুদ্ধ !

নেপালের বন্যায় এই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল স্যোশাল মিডিয়ায়। তবে নেপালের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর আজও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট প্রবল জল ও কাদার স্রোতে একাধিক জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ পরিঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসেবে প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দেড়া হাজারের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। জল কাদা সরলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো দাবি করেছে। ফলে উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনো পর্যন্ত দুর্যোগের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও গোরখা-সহ বিভিন্ন এলাকায়।

ভোটকোশি ও ত্রিশূলী নদীর জলপ্রবাহ এখনও বিপদসীমার উপরেই রয়েছে। বহু সেতু ও রাস্তা ভেসে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। নেপালি সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা হেলিকপ্টার ও স্থলপথে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। এই বিপর্যয়ে বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদেরও বড় সংখ্যায় নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ট্রেকিং ও পর্যটন সংস্থার কাছ থেকে ৬৪৪ জন নিখোঁজ পর্যটকের তথ্য পাওয়া গেছে। এদিন সকাল বাইরে বহু মানুষ উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এরই মধ্যে ভারত পাশে রয়েছে পড়শি দেশের। বৃহস্পতিবার দ্রুত ত্রাণ সহায়তা নিয়ে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভারত প্রথম দফায় ১০ টন জরুরি সহায়তা ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার C-130J বিমানে পাঠানো ওই বিমানে ছিল অস্থায়ী আশ্রয়ের সরঞ্জাম, কম্বল, হাইজিন কিট, সৌর বাতি এবং ওষুধ। এরপর আজ দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৭.৫ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। এই বিমানটিতে রয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ওষুধ এবং খাবারের প্যাকেট। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত দুই দফায় ভারতের পাঠানো ত্রাণের পরিমাণ মোট ৪৭.৫ টন।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত ও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, রাজ্য সরকার, পর্যটন সংস্থা এবং নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে। একই সঙ্গে ভারত আরও সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে। এদিকে নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের এই বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের আশঙ্কা তৈরি হলেও পরবর্তী ভূকম্পন-সংক্রান্ত বিশ্লেষণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়া এবং তার ফলে বিশাল জল-কাদা-ধসের স্রোত তৈরি হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দুর্গত অঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নেপালের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ, নিখোঁজদের সন্ধান, চিকিৎসা, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee