বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে আমেরিকা! ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি নয়াদিল্লির

17 September, 2026 3:50 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এক আইন পাশ হওয়ার পর ভারতের উপর একশো শতাংশ শুল্কের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় “সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিল ভারত। এই নিয়ে ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে সরকার। এমনটাই জানানো হয়েছে সরকারি বিবৃতিতে।

কী পাশ হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে

বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাশ হয়েছে ‘লিন্ডসি ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’। এর আগে গত মাসে ৮৬-১১ ভোটে সেনেটে পাশ হয়েছিল এই বিল। এবার তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এই আইন কার্যকর হলে, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা এবং গত ১২ মাসে রাশিয়া থেকে এই পণ্যগুলির সবচেয়ে বড় পাঁচটি আমদানিকারক দেশগুলির ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবার মার্কিন সফরে যাবেন। তার আগে এই আইন পাশ হওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

স্বয়ংক্রিয় শুল্ক নয়, ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে মাত্র

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন—এই আইন কার্যকর হলেই ভারতীয় পণ্যের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসবে না। এই আইন মূলত এমন একটি কাঠামো তৈরি করছে, যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস কেনা কিংবা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কাজে সহায়তা করা দেশগুলির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইচ্ছেমতো ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। বাস্তবে শুল্ক বসবে কি না এবং বসলে ঠিক কী হারে বসবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর।

আইনের পরিধি অবশ্য শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র এবং তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর জাহাজগুলির বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে এতে—এই ট্যাংকারগুলি পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়াকে তেল পরিবহণে সাহায্য করে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির কথাও রয়েছে এই আইনে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এই আইন পাশ হওয়ার বিষয়টি ভারত নজরে রেখেছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতীয় পক্ষ এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিজেদের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিতে তারা দৃঢ়সংকল্প। ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে সরকার…” এর পাশাপাশি মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আগেও বহুবার জানানো হয়েছে যে, নিজেদের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া, তেল আমদানির সিদ্ধান্ত “পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতি”-র ভিত্তিতেই নেওয়া হয় বলে ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত।

কেন এই ইস্যুতে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর ভারত

রাশিয়ার অশোধিত তেলের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। এই বছরের শুরুতে মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছিল ভারত, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফের রাশিয়ার তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে দেশ। এমনকি চলতি বছরের অগস্ট মাসেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অভিযোগে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, যার ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছিল ৫০ শতাংশে—যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্কহারগুলির অন্যতম। সেই সময়েও এই শুল্ককে “অন্যায্য ও অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করে নিজেদের “জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা” রক্ষায় “প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা” নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত।

এখন কী হবে

মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই পাশ হয়ে যাওয়ার ফলে এই আইন এখন যাচ্ছে হোয়াইট হাউসে, যেখানে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ভারতের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হবে—ট্রাম্প আদৌ এই নতুন শুল্ক-ক্ষমতা প্রয়োগ করেন কি না, এবং করলে ঠিক কোন পণ্যের ওপর কত হারে শুল্ক বসাবেন, তার সময়সূচিই বা কী হবে। এই আইন মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি করে রাখবে ভারত সরকার।

প্রতিবেদন

UTSAB RC