স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অনিয়ম? শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে আচমকা তল্লাশি স্বাস্থ্য কমিশনের আধিকারিকদের
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের বেসরকারি চিকিৎসা ক্ষেত্রের অনিয়ম রুখতে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে এবার কড়া পদক্ষেপ রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনের। শনিবার শিলিগুড়ির একাধিক নার্সিংহোম ও বেসরকারি হাসপাতালে আচমকা তল্লাশি ও পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধি দল। স্বাস্থ্য পরিষেবার মান, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, সঠিক চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষের থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতেই কমিশনের এই বিশেষ অভিযান।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতি, অতিরিক্ত টাকার দাবি এবং পরিষেবায় ঘাটতি সংক্রান্ত একগুচ্ছ লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছিল স্বাস্থ্য কমিশনে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পরিদর্শন করা হয়। এদিনের পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নার্সিংহোমগুলির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন। এদিন আইসিইউ, সিসিইউ, ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা এবং জরুরি বিভাগে সঠিক পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়। রোস্টার অনুযায়ী ডিউটিতে পর্যাপ্ত সংখ্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কড়া নজর দেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার এবং শয্যা ভাড়ার নামে রোগীদের কাছ থেকে সরকারি নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পুরোনো বিলিং রেকর্ড ও পেমেন্ট রসিদ খতিয়ে দেখা হয়।
রোগীদের মেডিকেল ফাইল এবং দৈনিক হেলথ চার্ট সঠিকভাবে বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তাও পরীক্ষা করেন প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনের সময় কেবল নথিপত্র বা পরিকাঠামো যাচাই করেই ক্ষান্ত থাকেননি কমিশনের আধিকারিকরা। বিভিন্ন নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তাঁরা। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের কোনও ক্ষোভ বা নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না, সে সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করেই মূলত সমগ্র উত্তরবঙ্গ এবং প্রতিবেশী রাজ্য ও দেশের যেমন সিকিম, বিহার, নেপাল, ভুটান এর বাসিন্দারা চিকিৎসা করাতে আসেন। ফলে এই অঞ্চলের বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর চাপ যেমন বেশি, তেমনি রোগীদের হয়রানির শিকার হওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। উত্তরবঙ্গের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিষেবার মান সুরক্ষিত রাখতেই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলায় এই ধরনের নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
